বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সংকটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল রপ্তানি সীমিত বা বন্ধ করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোকে জরুরি মজুত থেকে ডিজেল বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইউরোপীয় অংশীদারদের বিদ্যমান প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থার সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত ডিজেল অবিলম্বে বাজারে ছাড়তে হবে। তাঁর ভাষ্য, জ্বালানির বাড়তি দামের বোঝা মার্কিন কৃষক, ট্রাকচালক ও ব্যবসায়ীদের ওপর চাপানো উচিত নয়।

ইরান যুদ্ধ, রাশিয়ার রপ্তানি সীমাবদ্ধতা এবং অন্যান্য সরবরাহ বিঘ্নে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ইউরোপেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বড় ডিজেল রপ্তানিকারক; দেশটি দৈনিক প্রায় ১২ লাখ থেকে ১৫ লাখ ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করে। ফলে রপ্তানি কমে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সম্ভাব্য মার্কিন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছে। যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ জরুরি মজুত থেকে কিছু ডিজেল ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ নিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গেও একাধিক বৈঠক ও যোগাযোগ চলছে।

যুক্তরাজ্যেও ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে উঠেছে। দেশটির মোটরচালকদের সংগঠন আরএসি জানিয়েছে, ডিজেলের গড় দাম প্রতি লিটারে প্রায় ২০০ পেন্সে পৌঁছেছে।

নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম নিয়ে চাপ

নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ডিজেল রপ্তানি বন্ধের বিষয়টি তাঁরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে ওঠায় দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দাম কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে প্রশাসন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, রপ্তানি বন্ধ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে অন্যান্য দেশেও ডিজেলের দাম বাড়তে পারে।

হরমুজ সংকট ও রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞায় চাপ

ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি করেছে। এর সঙ্গে রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং চীনের জ্বালানি রপ্তানি কমানোর সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করেছে।

বিশ্ববাজারে সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলায় ইউরোপের জরুরি মজুত ব্যবহার করা হলে স্বল্পমেয়াদে বাজারে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহ হতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী সংকটের ক্ষেত্রে কৌশলগত মজুত কমে যাওয়ায় ইউরোপের নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

ডিজেল আমদানিনির্ভর যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্য অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল আমদানি করে। দেশটির পরিবহন খাতেও ডিজেলের ওপর নির্ভরতা বেশি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে গেলে দেশটির পরিবহন ও কৃষি খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হতে পারে।