ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তিনটি প্রদেশে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে হুথি বিদ্রোহীরা।
হুথিদের দেওয়া তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো রাজধানী সানা ছাড়াও কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সাদা, তাইজ এবং আমরান প্রদেশের বিভিন্ন ঘনবসতিপূর্ণ ও সামরিক এলাকায় এ বিমান হামলা পরিচালনা করে। তবে এসব হামলায় সুনির্দিষ্ট কোন কোন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিংবা হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা ও সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত—সে বিষয়ে হুথি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
২৭টি বিমান হামলা ও হুথিদের ক্ষয়ক্ষতি এদিকে ইয়েমেনের সরকারি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে সংঘাতময় এলাকায় হুথিদের শক্ত অবস্থান ও গোপন সমাবেশস্থল লক্ষ্য করে মোট ২৭টি সফল বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজিদ আবদুল্লাহ আল-নুজাইলি জানান, এই বিধ্বংসী হামলায় হুথিদের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, অস্ত্র ও রসদ সরবরাহের কেন্দ্র, যোদ্ধাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান এবং বেশ কয়েকটি সামরিক যানকে নিশানা করা হয়েছিল।
তার দাবি, এতে বিদ্রোহীদের একাধিক সামরিক যানবাহন ও যুদ্ধ সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন হুথি যোদ্ধা নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে নিহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির এই দাবি স্বতন্ত্রভাবে স্বাধীন কোনো মাধ্যম দিয়ে সরাসরি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পাল্টা আক্রমণ ও সৌদি জোটের বক্তব্য এর আগে ইয়েমেন সরকারকে সমর্থক সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত ও জাজান শহরের দিকে হুথিদের ছোড়া ক্ষতিকর ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী নিখুঁতভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করে দিয়েছে।
আল-মালিকি আরও দাবি করেন, সম্প্রতি মদিনার ঐতিহাসিক 'তাইবাহ' বিদ্যুৎকেন্দ্রেও হুথিরা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। উল্লেখ্য, ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেই বিশ্বখ্যাত মসজিদে নববীসহ আশপাশের সমগ্র এলাকায় নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। সেই হামলায় একটি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার অচল হয়ে পড়লেও সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি।
তবে মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরিকল্পিত হামলার এসব অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। তাদের পাল্টা দাবি, তাদের বিরুদ্ধে অন্যায় রাজনৈতিক সুবিধা নিতে ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক অভিযোগ তুলছে সৌদি আরব।