একসময় স্মার্টফোন মানেই ছিল বড় স্ক্রিন আর পাতলা একটি ডিভাইস। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনে সেই ধারণাও বদলে গেছে। এখন স্মার্টফোন শুধু পকেটে রাখার ডিভাইস নয়, প্রয়োজনে সেটিই হয়ে যাচ্ছে ট্যাবলেটের বিকল্প। আর এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ ফোল্ডেবল স্মার্টফোন। বিশ্বের প্রযুক্তি বাজারে যখন ফোল্ডেবল ফোন নিয়ে প্রতিযোগিতা তুঙ্গে, তখন এবার সেই লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে দুই প্রযুক্তি জায়ান্ট হুয়াওয়ে ও অ্যাপল।

কেন ফোল্ডেবল ফোন নিয়ে এত প্রতিযোগিতা?

ফোল্ডেবল ফোনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ছোট আকারের একটি ডিভাইসেই বড় পর্দার সুবিধা পাওয়া। ফোন ভাঁজ করে রাখা যায় সহজেই, আবার প্রয়োজন হলে সেটিকে খুলে বড় স্ক্রিনে পরিণত করা যায়। ফলে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের মাঝামাঝি একটি অভিজ্ঞতা দিচ্ছে এই প্রযুক্তি।চীনের বাজারে ফোল্ডেবল ফোন নিয়ে বেশ আগেই শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে হুয়াওয়ে। এবার নতুন প্রযুক্তি ও নকশা নিয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে অ্যাপলও ফোল্ডেবল আইফোনের বাজারে প্রবেশ করায় প্রতিযোগিতা এখন পৌঁছে গেছে নতুন উচ্চতায়।ফোল্ডেবল প্রযুক্তিতে হুয়াওয়ের সবচেয়ে বড় চমক তাদের ট্রাই-ফোল্ড স্মার্টফোন। অর্থাৎ একটি ফোনকে একবার নয়, দুইবার ভাঁজ করা যায়। ফলে ভাঁজ করা অবস্থায় এটি থাকে স্মার্টফোনের মতো ছোট, আবার পুরোপুরি খুললে পাওয়া যায় অনেক বড় একটি ডিসপ্লে। এ ধরনের প্রযুক্তি শুধু ফোন ব্যবহারের ধরনই বদলে দিচ্ছে না, একই সঙ্গে নির্মাতাদের মধ্যেও তৈরি করছে নতুন প্রতিযোগিতা। কে আরও পাতলা, শক্তিশালী এবং আকর্ষণীয় ফোল্ডেবল ফোন তৈরি করতে পারে এখন সেই দৌড়েই নেমেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।

অ্যাপল কেন নামছে ফোল্ডেবলের দৌড়ে?

অ্যাপল দীর্ঘদিন ধরে ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বাজার থেকে দূরে ছিল। কিন্তু এবার সেই অবস্থান বদলেছে। আইফোনের বিশাল বৈশ্বিক বাজারকে কাজে লাগিয়ে ফোল্ডেবল সেগমেন্টেও নিজেদের জায়গা তৈরি করতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি। অ্যাপলের প্রবেশের ফলে শুধু হুয়াওয়ে নয়, স্যামসাং, শাওমিসহ অন্যান্য নির্মাতাদের জন্যও প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। কারণ অ্যাপলের নতুন কোনো প্রযুক্তি বাজারে এলে সেটিকে ঘিরে ভোক্তাদের আগ্রহও তৈরি হয় ব্যাপকভাবে।

ফোল্ডেবল ফোনের সামনে চ্যালেঞ্জ কী?

তবে প্রযুক্তির এই চমক যতটা আকর্ষণীয়, এর সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। সাধারণ স্মার্টফোনের তুলনায় ফোল্ডেবল ফোন তৈরির প্রযুক্তি বেশি জটিল। বড় ডিসপ্লে, ভাঁজ করার সক্ষমতা, হিঞ্জের স্থায়িত্ব এবং ব্যাটারির কার্যক্ষমতা সবকিছু একসঙ্গে নিশ্চিত করাই নির্মাতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তার ওপর মেমোরি চিপসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দাম বাড়লে উৎপাদন খরচও বেড়ে যেতে পারে। ফলে অত্যাধুনিক এই ফোনগুলো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রাখা একটু কঠিন হয়ে পরবে ফোন কোম্পানি গুলোর জন্য।