তথ্যপ্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান উন্নতিতে পৃথিবী আজ পৌঁছে গেছে ওপেনএআইয়ের যুগে। শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্ব কাঁপছে এআই জ্বরে। সম্প্রতি বাংলাদেশে ৮০-৯০ দশকের ছবি তৈরি করার মধ্য দিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কার্যক্রম। অনেকে বলছে, এআই মানুষকে নিয়ে যাচ্ছে বর্তমান ছাড়িয়ে অতীত কিংবা ভবিষ্যতের দুনিয়ায়। তবে যারা কিনা এআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা, এবার তারাই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই বিষয়টি নিয়ে।

কেন এআই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশ্বনেতারা?

সম্প্রতি আমেরিকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা ও প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যানথ্রোপিকের সিইও এআইয়ের ব্যাপক জনপ্রিয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এক নিবন্ধে দাবি করেছেন, মানবজাতির সুরক্ষার স্বার্থে সব টেক কোম্পানির উচিত শক্তিশালী এআই মডেল তৈরির গতি কিছুটা কমিয়ে দেওয়া। তার এমন মন্তব্যকে ওপেনএআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং ইলন মাস্ক সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের এমন দাবির পেছনে কারণটাও স্পষ্ট। যে প্রযুক্তি চালু করা হয়েছিল মানুষের ভালোর জন্য এবং যাকে তৈরি করা হয়েছিল মানুষের বুদ্ধিমত্তা বাড়ানোর জন্য, সেই এআই-ই কিনা কেড়ে নিচ্ছে মানুষের সৃজনশীলতা ও বুদ্ধিমত্তা। ধীরে ধীরে মানুষ হারিয়ে ফেলছে মাথা খাটিয়ে কোনো কাজ করার স্পৃহা।

এআই ব্যবহার করে কীভাবে ক্রাইম করা হচ্ছে?

বিজ্ঞানের আশীর্বাদ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আমাদের জীবনকে সহজ ও গতিশীল করলেও এর একটি অন্ধকার দিকও দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। প্রযুক্তির এই আধুনিক রূপকে ঢাল বানিয়ে বিশ্বজুড়ে এবং আমাদের সমাজে একশ্রেণির অপরাধী চক্র সাইবার ক্রাইমের এক নতুন ও বিপজ্জনক ধারা তৈরি করেছে। অতি সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, কোনো বাস্তব ঘটনাকে সম্পূর্ণ বিকৃত করতে এবং সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নেওয়া হচ্ছে দেদারসে। এমনকি মানুষের ছবিকে বিকৃত করেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ক্ষতি করা হচ্ছে মানুষের।

কীভাবে এআইয়ের খারাপ দিকগুলো প্রতিকার করা সম্ভব?

এআইয়ের লাগাম যেভাবে বেড়ে চলছে, খুব শিগগিরই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অচিরেই অন্ধকারের মুখে পড়বে দেশের তরুণ সমাজ থেকে বুদ্ধিজীবীরা। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে সম্ভব এর লাগাম টেনে ধরা? যেখানে বিশ্বনেতারাও এআইয়ের উচ্চ ব্যবহার ও ক্ষতিকর দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তবে কয়েকটি পন্থা অবলম্বন করলে তা সম্ভব।

১. ডিপফেক বা ভয়েস ক্লোনিং করে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইল করার বিরুদ্ধে কঠোর ও জামিন-অযোগ্য শাস্তির বিধান রাখা প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, সাইবার সুরক্ষা আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

২. লোহা দিয়ে যেমন লোহা কাটতে হয়, তেমনি এআইয়ের অপব্যবহার রুখতে এআই প্রযুক্তিকেই ব্যবহার করতে হবে। যেমন, এআই দিয়ে তৈরি ছবি, অডিও বা ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে এমন একটি অদৃশ্য কোড বা ‘ক্রিপ্টোগ্রাফিক ওয়াটারমার্ক’ বাধ্যতামূলক করতে হবে, যাতে যে কেউ তা শনাক্ত করতে পারে।

৩. সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হতে পারে মানুষকে এআইয়ের ভয়াবহতা নিয়ে সচেতন করা।