যে মানুষগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে ভেতর থেকে কাজ করেছেন, তারাই এখন চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন ভয়ংকর সব সতর্কবার্তা দিয়ে! গবেষকদের দাবি এআই যদি নিজেকেই আরও শক্তিশালী করতে শেখে, তাহলে আগামী এক দশকে এটি সব মানুষকে হত্যা করতে পারে এমন সম্ভাবনা ১০ শতাংশেরও বেশি। আর এআই বানানো মানুষই যখন চাকরি ছেড়ে এভাবে সতর্ক করেন, তখন সত্যিই ভয় পাওয়ার মতো কিছু ঘটছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড় নিয়ে এমনই এক ভয়ংকর শঙ্কা প্রকাশ করে চাকরি ছেড়েছেন অ্যানথ্রপিক-এর এক শীর্ষ গবেষক। তাঁর অভিযোগ, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দুই এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক ও ওপেন-এআই এমন এক অন্ধ প্রতিযোগিতায় ছুটছে, যেখানে মানুষের নিরাপত্তা আজ বড় ঝুঁকির মুখে।

গবেষক জ্যাকব কক্সন মঙ্গলবার অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ লেখেন, আমি আজ অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগ করেছি। গত তিন বছর আমি ওপেন-এআই এবং অ্যানথ্রপিক দুই প্রতিষ্ঠানেই প্রি-ট্রেইনিং গবেষণার কাজ করেছি। আমার মনে হয়, কোনো প্রতিষ্ঠানই দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে না। তারা সরাসরি এমন সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির দিকে ছুটছে, যা নিজেকেই আরও উন্নত করতে পারে এবং এর মাধ্যমে আমাদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

কক্সন আরও সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতের এআই সিস্টেমগুলো মানুষের চেয়েও অনেক বেশি সক্ষম হয়ে উঠতে পারে। এমনকি তারা যেকোনো সিস্টেম হ্যাক করা, রাতারাতি বিভিন্ন ক্ষেত্রকে বদলে দেওয়া এবং বাস্তব পৃথিবীতে ক্ষমতা ও সম্পদ অর্জনের মতো কাজও করতে পারে। সবচেয়ে বড় আতঙ্কের জায়গা হলো রিকার্সিভ সেল্ফ-ইমপ্রুভমেন্ট । অর্থাৎ এমন এআই, যা নিজের পরবর্তী সংস্করণকে নিজেই আরও শক্তিশালী ও উন্নত করতে পারে।

এই প্রযুক্তি এখনো বাস্তবে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার পর্যায়ে পৌঁছায়নি। কিন্তু কক্সন-এর অভিযোগ, অ্যানথ্রপিক ও ওপেন-এআই ইতোমধ্যেই ছুটছে সেলফ ইম্প্রুবিং সুপার ইন্টেলিজেন্স তৈরির দিকে। তবে তিনি একইসঙ্গে বলেন, অ্যানথ্রপিক তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। কিন্তু সুপারইন্টেলিজেন্সের অ্যালাইনমেন্ট সমস্যা কীভাবে সমাধান করা হবে, তার কোনো নিশ্চিত পরিকল্পনা এখনো তাদের হাতে নেই।

আর এখানেই প্রশ্ন নিরাপত্তা আগে, নাকি প্রযুক্তির গতি? আমরা পর্দায় শুধু একটি চ্যাটবট দেখছি, কিন্তু এর পেছনে চলছে এমন এক দৌড়, যার শেষ কোথায় তা কেউ জানে না। বিপদটা সবাই জানে, তারপরও সবাই ছুটছে । অর্থাৎ, যে প্রযুক্তিকে আমরা আজ ই-মেইল লেখা, ছবি তৈরি কিংবা কোড বানানোর একটি টুল হিসেবে দেখছি তার ভবিষ্যৎ ক্ষমতা নিয়ে প্রযুক্তি জগতের ভেতরেই তৈরি হচ্ছে গভীর উদ্বেগ। আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন মানুষ কি এআইকে আরও শক্তিশালী করার আগে নিশ্চিত হতে পারবে যে, একদিন সেই এআইকেই মানুষ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে? কারণ এই দৌড় এখন শুধু প্রযুক্তির দৌড় নয় এটা হয়ে উঠছে মানুষের তৈরি সবচেয়ে শক্তিশালী প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার এক ভয়ংকর পরীক্ষা।