ফরিদপুর শহরের পুরাতন কালীবাড়ি মন্দির থেকে চুরি হওয়া কষ্টিপাথরের কালী প্রতিমা, স্বর্ণ-রুপার অলংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মাটির নিচ থেকে কালী প্রতিমা ও অন্যান্য চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার শাহরীয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।

পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন স্থানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুরাইচ ইউনিয়নের বুরাইচ গ্রাম থেকে আসাদুজ্জামান সাদ্দাম (৩৮), তাঁর মা সাজেদা বেগম (৬৫) এবং বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের কান্দাকূল গ্রামের আমিন মোল্লাকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে সাজেদা বেগমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বাড়ির রান্নাঘরের মাটির নিচে তল্লাশি চালিয়ে চুরি যাওয়া স্বর্ণ ও রুপার অলংকার এবং মন্দিরের ছয়টি পিতলের মূর্তি উদ্ধার করা হয়।

এরপর আসাদুজ্জামান সাদ্দাম ও আমিন মোল্লার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বোয়ালমারী উপজেলার রূপপাত ইউনিয়নের রূপপাত গ্রামের একটি বাড়ির পেছনে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা কষ্টিপাথরের কালী প্রতিমাটি উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের অভিযান সেখানেই শেষ হয়নি। রোববার সকালে বোয়ালমারী স্বর্ণবাজারের একটি জুয়েলারি দোকানে অভিযান চালিয়ে প্রতিমার কানের দুল ও টিকলিসহ গলানো অবস্থায় প্রায় ৮ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই জুয়েলারি দোকানের মালিক আতিয়ার রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, উদ্ধার করা কষ্টিপাথরের কালী প্রতিমাটির ওজন প্রায় ২০ কেজি। এর আনুমানিক মূল্য এক কোটি টাকা। প্রতিমার সঙ্গে থাকা প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকারের মূল্য প্রায় ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এ ছাড়া প্রায় আট কেজি ওজনের বিষ্ণু, রাধাকৃষ্ণ ও মনসা মূর্তি, শিবলিঙ্গের সঙ্গে থাকা প্রায় ১০ ভরি ওজনের রুপার সাপ এবং আরও প্রায় ৩০ ভরি রুপার সামগ্রী চুরি হয়েছিল। সব মিলিয়ে চুরি হওয়া সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য এক কোটি ১২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিষয়ে পুলিশ জানায়, আসাদুজ্জামান সাদ্দামের বিরুদ্ধে ফরিদপুরের বিভিন্ন আদালতে চুরি, দস্যুতা, ডাকাতি ও মূর্তি চুরিসহ ১০টি মামলা রয়েছে। আমিন মোল্লার বিরুদ্ধেও একই ধরনের আটটি মামলা রয়েছে।

এ ঘটনায় মন্দির কমিটির সভাপতি কুশল চক্রবর্তী বাদী হয়ে ২০ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করছেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হিরামন বিশ্বাস।

তিনি জানান, গ্রেপ্তার চারজনকে রোববার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে। চুরির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর বাইরে অন্য কোনো মালামাল কোথায় রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ১৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের পশ্চিম পাশে অবস্থিত পুরাতন কালীবাড়ি মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা মন্দিরের কাঠের ও লোহার গেটের পাঁচটি তালা ভেঙে কষ্টিপাথরের কালী প্রতিমাসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে যায়।

প্রায় ১৮ শতাংশ জমির ওপর অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মন্দিরটির পাকা কাঠামো নির্মাণ করা হয় ১৯০৩ সালে। চুরির পর প্রতিমা ও মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রতিমাসহ অধিকাংশ সামগ্রী উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।