নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ, শ্রমিকদের মজুরিসহ পরিচালন ব্যয় মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ায় গভীর সংকটে পড়েছে দেশের রেস্তোরাঁ খাত। এ পরিস্থিতিতে রেস্তোরাঁর খাবারের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সীমিত পরিসরে গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর পল্টনে ফার্স হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসে আয়োজিত ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে চরম সংকটে রেস্তোরাঁ খাত, সংকট নিরসনের দাবিতে’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এ দাবি তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান। এ সময় সংগঠনের সভাপতি শাহ সুলতান খোকনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কেজিতে ১ হাজার টাকা গরুর মাংস, বিক্রি কমেছে ৩০ শতাংশ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে বাজারে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় পৌঁছেছে, যার বড় একটি অংশে থাকছে হাড় ও চর্বি। এত চড়া দামে মাংস কিনে রেস্তোরাঁ পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। খাবারের দাম বাড়ালে ক্রেতা কমে যাওয়ার ভয়ে মালিকরা দাম বাড়াতেও পারছেন না।

পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি ও ক্রেতা কমার কারণে বর্তমানে সার্বিকভাবে রেস্তোরাঁগুলোর বিক্রি প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে বলে উল্লেখ করে সংগঠনটি।

গোখাদ্যের সিন্ডিকেট ও আমদানির যৌক্তিকতা সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও সিন্ডিকেটের কারণে প্রান্তিক খামারিদের পক্ষে পশু পালন কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, পাঁচ তারকা হোটেল ও বিশেষায়িত রেস্তোরাঁগুলোকে যদি বিদেশ থেকে মাংস আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়, তবে নির্দিষ্ট শর্ত ও সরকারি কঠোর তদারকির আওতায় সাধারণ রেস্তোরাঁগুলোকেও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কম দামে মাংস আমদানির অনুমতি দেওয়া উচিত। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং ভোক্তারা কম দামে খাবার পাবেন।

সংকট নিরসনে ৯ দফা দাবি রেস্তোরাঁ খাতকে রক্ষা ও টেকসই বিকাশের লক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনে ৯ দফা দাবি পেশ করা হয়। উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো: ১. রেস্তোরাঁ ব্যবসার অনুমোদনে দ্রুত ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু করা। ২. জেলা প্রশাসন কর্তৃক খাবারের দাম নির্ধারণ বা হস্তক্ষেপে অহেতুক হয়রানি বন্ধ করা। ৩. ভ্যাট আদায়ে হয়রানি বন্ধ, ১০% সম্পূরক শুল্ক ও ২% উৎসে কর প্রত্যাহার। ৪. এলপিজি ও জ্বালানি সংকট নিরসন এবং লোডশেডিং কমানো। ৫. বিভিন্ন সংস্থার অভিযানের নামে অহেতুক জরিমানা ও হয়রানি বন্ধ। ৬. রেস্তোরাঁ খাতকে দ্রুত ‘শিল্প’ হিসেবে ঘোষণা করে সুনির্দিষ্ট শিল্পনীতি প্রণয়ন। ৭. ব্যবসায়ীদের দলীয় ট্যাগ দিয়ে হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা। ৮. রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা প্রদান। ৯. নীতি ও ব্যয় কাঠামোর যৌক্তিক পুনর্বিবেচনা।

রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি মনে করে, এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রক্ষা পাবে এবং দেশের খাদ্যসেবা খাত আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হতে পারবে।