অচেনা জায়গায় সঠিক গন্তব্য খুঁজে পেতে গুগল ম্যাপস বা অনলাইন মানচিত্র এখন আমাদের প্রধান ভরসা। তবে এই প্রযুক্তির সুযোগ নিয়ে চীনের বেইজিংয়ে এক ব্যক্তি নিজের নামে আস্ত একটি রাস্তার নামকরণ করে ফেলেছিলেন। ২০১৩ সালে বেইজিংয়ের চাওইয়াং এলাকার একটি রাস্তায় কোনো সরকারি সাইনবোর্ড না থাকায় বিষয়টি নজরে আসে 'গে ইউলু' নামের এক ব্যক্তির। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেখানে কোনো নামফলক ছিল না। সুযোগ বুঝে গে ইউলু নিজেই একটি সাইনবোর্ড তৈরি করে সেখানে ঝুলিয়ে দেন, যাতে লেখা ছিল ‘গে ইউ লু’। চীনা ভাষায় ‘লু’ শব্দের অর্থ রাস্তা, যা কাকতালীয়ভাবে তার নিজের নামেরও অংশ ছিল।

 সরকারি নথিতে ভুয়ো নামের স্বীকৃতি:হাতে তৈরি সেই সাইনবোর্ডটি দেখতে হুবহু সরকারি সাইনবোর্ডের মতোই ছিল। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা বা পথচারী কারও মনেই কোনো সন্দেহ জাগেনি, সবাই এটিকে আসল নাম হিসেবেই ধরে নেন। গে ইউলুর এই চতুরতা এতটাই সফল হয় যে, ২০১৫ সালের মধ্যে ‘গে ইউ লু’ নামটি সরকারি নথিপত্রেও জায়গা করে নেয়। এরপর থেকে বিভিন্ন অনলাইন মানচিত্র ও নেভিগেশন অ্যাপে এই নাম ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেভিগেশন সেবা গুগল ম্যাপসেও রাস্তাটির নাম ‘গে ইউ লু’ হিসেবে দেখাতে শুরু করে।

সত্য উন্মোচন ও মানচিত্র সংশোধন:অবশ্য এই জালিয়াতি চিরকাল ঢাকা থাকেনি। কয়েক বছর পর বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে এবং আসল সত্যটি উন্মোচিত হয়। তদন্তের পর প্রশাসন দ্রুত সেই ভুয়ো সাইনবোর্ডটি রাস্তা থেকে নামিয়ে ফেলে। একই সাথে গুগল ম্যাপসসহ অন্যান্য অনলাইন মানচিত্র থেকে রাস্তাটির নাম সংশোধন করে সঠিক নাম প্রতিস্থাপন করা হয়। তবে বিষয়টি ধরা পড়ার আগে, টানা কয়েক বছর ধরে একটি সরকারি রাস্তা নিজের নামে রাখার এক অদ্ভুত ও বিরল অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়ে রইলেন গে ইউলু।

তথ্য যাচাই ও অনলাইন মানচিত্রের কার্যপদ্ধতি:এই ঘটনাটি ঘটেছিল মূলত চীনের জনপ্রিয় 'বাইদু ম্যাপস'-এর ভুলের কারণে। তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মানবকর্মী দিয়ে তথ্য যাচাই করলেও, সাইনবোর্ডটি দেখতে আসল মনে হওয়ায় বিভ্রান্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে বাইদু ম্যাপস থেকে তথ্য নিয়ে অ্যাপল ম্যাপস ও গুগল ম্যাপসের মতো বিশ্বসেরা প্ল্যাটফর্মগুলোও একই ভুল প্রচার করে। সাধারণত গুগল ম্যাপসে ব্যবহারকারীরা প্লাস (+) আইকনে ক্লিক করে নতুন রাস্তা যুক্ত বা ভুল নাম সংশোধনের আবেদন করতে পারেন। তবে বর্তমান সময়ে এমন ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ করতে গুগল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান রোবোটিক মেশিন লার্নিং এবং দক্ষ মানবকর্মী দিয়ে প্রতিটি তথ্য অত্যন্ত কঠোরভাবে যাচাই করে থাকে।