ইরানের সঙ্গে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এই পথ দিয়ে তেল রপ্তানি আগের তুলনায় বেড়েছে। কিন্তু বাজারে সরবরাহ বাড়ার পরও তেলের দাম কমছে না। এর পেছনে সম্ভাব্য গোপন কোনো চুক্তি রয়েছে কি না, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের এক কর্মকর্তার মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো হয়তো ইরানকে বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে তেল পরিবহনের সুযোগ নিচ্ছে। এমনকি তেলের দামের একটি অংশ তেহরানকে দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এর আগে মার্চে একটি শিপিং জার্নালের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড হরমুজ প্রণালিতে একটি টোল ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানকে এ ধরনের টোল আদায়ের সুযোগ দেওয়া হবে না।

এদিকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের নিরাপত্তা এবং জাহাজ বদলের কৌশল কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি আবারও বাড়ছে। দীর্ঘ বিরতির পর ইরাকও হরমুজ প্রণালি দিয়ে বড় ট্যাংকারে তেল পরিবহন শুরু করেছে।

তবে ইরানের দাবি, তাদের নজর এড়িয়ে খুব সামান্য পরিমাণ তেলই প্রণালি দিয়ে পার হচ্ছে। সম্প্রতি হরমুজে চলাচলকারী একটি তেলবাহী ট্যাংকারকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগও পুরোপুরি কাটেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে টোল আদায় না করলেও গোপনে কোনো ধরনের নিরাপত্তা বা পারাপার ব্যবস্থা থাকতে পারে। তবে তেলের দাম চড়া থাকার পেছনে শুধু সংঘাত বা সম্ভাব্য গোপন ফিই দায়ী নয়।

মূল চাপ তৈরি করছে পর্যাপ্ত ট্যাংকারের সংকট এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া। ফলে হরমুজ দিয়ে তেল রপ্তানি বাড়লেও বাড়তি জাহাজ ভাড়া ও সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারে তেলের দামে চাপ তৈরি করছে।