ইরানি হামলার আশঙ্কার মুখে যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড (RAF Fairford) বিমানঘাঁটি থেকে মোতায়েনকৃত ১২টি ‘বি-১’ (B-1) বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সপ্তাহান্তে বিমানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে পেন্টাগন।
এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে ইরানের সম্ভাব্য হামলার তীব্র আশঙ্কার কারণেই বি-১ বোমারু বিমান বহর সরিয়ে নেওয়ার এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্যে সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য এর আগে গত সপ্তাহে ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে হামলার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার সন্দেহে যুক্তরাজ্য ও ইরানের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ব্যক্তিসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা বাহিনী। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ওই বিমানঘাঁটিতে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে যুক্তরাজ্যকে আগাম সতর্ক করে গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছিল ইসরায়েল।
পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘অভিযানিক নিরাপত্তার কারণে’ সামরিক সম্পদ ও বাহিনীর গতিবিধি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব না হলেও ফেয়ারফোর্ডে মোতায়েন সব মার্কিন বোমারু বিমান এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ঘাঁটিতে নিরাপদেই ফিরে এসেছে। পেন্টাগনের বিবৃতিতে সরাসরি ইরানি হামলার বিষয়টি উল্লেখ না থাকলেও বি-১, বি-২ ও বি-৫২ বোমারু বিমান বহর বিশ্বজুড়ে মার্কিন মূল ভূখণ্ড থেকেই যেকোনো সময় নির্ভুল হামলা চালাতে সক্ষম বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির সামরিক গুরুত্ব উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে ইরানে ‘সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষামূলক অভিযান’ পরিচালনার জন্য যুক্তরাজ্য এই ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিলে বি-১ সহ বিভিন্ন মার্কিন যুদ্ধবিমান সেখানে অবস্থান নেয়। যুক্তরাজ্যের মূল ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রধান কেন্দ্র ফেয়ারফোর্ড থেকে একযোগে সব বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্য ও ইরান ঘিরে বৈশ্বিক সামরিক উত্তেজনা নতুন মোড় নিল।