ইংলিশ কাউন্টির মাটিতে যেন বাংলাদেশের পেসারদেরই রাজত্ব। কেন্টের জার্সিতে একের পর এক ম্যাচে আলো ছড়াচ্ছেন হাসান মাহমুদ। এবার তার সঙ্গে যোগ দিয়ে অভিষেকেই দারুণ ছাপ রাখলেন খালেদ আহমেদ। প্রথম ইনিংসেই দুই টাইগার পেসারের শিকার ৭ উইকেট - যেখানে হাসানের ৪, খালেদের ৩। ইংল্যান্ডের কন্ডিশন, সুইং আর সিম - যে অস্ত্র দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার স্বপ্ন দেখে পেসাররা, সেখানেই এখন বাংলাদেশের দুই পেসারের দাপট। ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে শুরুতেই আগুন ঝরালেন হাসান মাহমুদ। ম্যাচের প্রথম ওভারেই পরপর দুই বলে দুই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণটা যেন নিজেদের হাতে নেন এই ডানহাতি পেসার।
হাসানের সেই ঝড় থামেনি খালেদের অভিষেকেও। কাউন্টিতে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই প্রতিপক্ষের মিডল অর্ডারে আঘাত হানেন তিনি। নিজের চতুর্থ ওভারেই প্রথম উইকেট, এরপর অধিনায়ক ওয়েইন ম্যাডসেনকে ফিরিয়ে অভিষেকটা করে তোলেন স্মরণীয়। অবশ্য কাউন্টিতে হাসানের দাপট আজকের নয়। ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে অভিষেকেই ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে নেন আরও ৩ উইকেট। উস্টারশায়ারের বিপক্ষে দুই ইনিংসে ৭ উইকেট নিয়ে কেন্টকে জেতানোর পর, এবার ডার্বিশায়ারের বিপক্ষেও প্রথম ইনিংসেই ৪ উইকেট - ফলে কাউন্টিতে তার উইকেটসংখ্যা পৌঁছেছে ২১-এ।
আর এই সাফল্যের ধারায় এবার যুক্ত হলেন খালেদ আহমেদ। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৭০ ম্যাচে ১৯০ উইকেট নেওয়া এই পেসার কেন্টে এসেছেন সেপ্টেম্বরের চারটি কাউন্টি ম্যাচ খেলতে। অর্থাৎ, অভিজ্ঞতা আর গতির মিশেলে কেন্টের পেস আক্রমণে এখন দুই বাংলাদেশির জুটি। কাউন্টিতে টাইগার পেসারদের এই ছন্দ তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও আশার বার্তা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেও হাসান দুই ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়েছিলেন, যার মধ্যে প্রথম ইনিংসেই ৬ উইকেট - ম্যাচসেরাও হয়েছিলেন তিনি। মাঠের পারফরম্যান্সেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন হাসান-খালেদ। ইংলিশ কাউন্টিতে দুই টাইগারের এই ধারাবাহিকতা এখন জাতীয় দলের পেস আক্রমণেও কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই দেখার অপেক্ষা।