আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট, সম্ভাব্য ভেন্যু শারজাহ - তাই প্রতিপক্ষের কৌশলের আগেই প্রস্তুত বাংলাদেশ। আফগানদের শক্তির জায়গা স্পিন, আর শারজাহর উইকেটও স্পিনারদের জন্য হয়ে উঠতে পারে বড় অস্ত্র। সেই চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখেই মিরপুরে তৈরি করা হয়েছে শারজাহর আদলে বিশেষ উইকেট। আর সেই উইকেটে নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছেন মুশফিকুর রহিম, সৌম্য সরকার, সাদমান ইসলামরা।
শারজাহর উইকেট সাধারণত বেশ শুকনো ও ধীরগতির হয়ে থাকে, যেখানে বল ব্যাটে আসে একটু থেমে। বাউন্সও অনেক সময় নিচু থাকে, ফলে ব্যাটারদের জন্য শট খেলার সময় ও গতি বোঝা হয়ে যায় বড় পরীক্ষা।ম্যাচ যত গড়ায়, পিচে তৈরি হওয়া গ্রিপ ও টার্ন স্পিনারদের বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। তাই এমন কন্ডিশনে টিকে থাকতে ব্যাটারদের দরকার ধৈর্য, নিখুঁত টেকনিক আর বল বুঝে খেলার দক্ষতা।
আর এখানেই বাংলাদেশের আগাম পরিকল্পনার সার্থকতা - শারজাহতে গিয়ে উইকেট চিনতে নয়, আগেই তাকে চিনে নেওয়া। মিরপুরের পরিচিত মাঠেই তৈরি করা হয়েছে চকচকে, ধীরগতির উইকেট, চলছে সেই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মহড়া। স্পিনের বিপক্ষে কখন সামনে যেতে হবে, কখন পিছিয়ে এসে খেলতে হবে - অনুশীলনে চলছে তারই সূক্ষ্ম পরীক্ষা।
অর্থাৎ আসল লড়াইয়ের আগে মিরপুরেই যেন তৈরি হচ্ছে শারজাহর ছোট্ট এক পরীক্ষাগার। এই প্রস্তুতিতে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম; কঠিন কন্ডিশনে তার অভিজ্ঞতাই হতে পারে বড় ভরসা। সঙ্গে সৌম্য সরকার ও সাদমান ইসলামও নিজেদের ব্যাটিংকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন ধীরগতির উইকেটের সঙ্গে।
বাংলাদেশের এই উদ্যোগে স্পষ্ট - টেস্টের প্রস্তুতি শুধু ব্যাট-বল হাতে নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সম্ভাব্য ভেন্যুর কন্ডিশন, উইকেটের চরিত্র এবং প্রতিপক্ষের শক্তি - সবকিছুকেই পরিকল্পনার অংশ করা হয়েছে। শারজাহর ধীর ও স্পিনবান্ধব উইকেট যদি হয় আফগানিস্তানের অস্ত্র, তাহলে সেই অস্ত্রের মহড়া মিরপুরেই নিচ্ছে বাংলাদেশ। ম্যাচের আগে এমন প্রস্তুতিই হয়তো পার্থক্য গড়ে দিতে পারে দুই দলের লড়াইয়ে।