২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এস আলম গ্রুপের সময়ে ব্যাংকটিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময়ে বিজ্ঞপ্তি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় এস আলমের চট্টগ্রামের পটিয়ার বাড়ি ও আছদগঞ্জের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে বিশেষ বাক্সে চাকরিপ্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত জমা নেওয়ার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ পাওয়া ১০ হাজার ৮৩২ জনের মধ্যে ৮ হাজার ৯৯ জনই চট্টগ্রাম জেলার বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে ৫ হাজার ১৪৮ জনের বাড়ি এস আলমের নিজ উপজেলা পটিয়ায়। অর্থাৎ ওই সময়ে ব্যাংকটির মোট নিয়োগের প্রায় অর্ধেকই হয়েছে একটি উপজেলা থেকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা না করে এ ধরনের নিয়োগ দেওয়ায় ব্যাংকের বেতন ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি জনবল নিয়োগে আঞ্চলিক মেরুকরণ ও কেন্দ্রীভূত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর ফলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগ্য প্রার্থীদের একটি অংশ ব্যাংকটিতে চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা সময়ে অনিয়ম শুধু অপেক্ষাকৃত নিচের পদে সীমাবদ্ধ ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ১৬টি ধাপে বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রবেশনারি অফিসারসহ ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্টের মতো বিভিন্ন পর্যায়ের পদেও নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে।
এস আলমের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর ব্যাংকটির জনবল নিয়ে নতুন করে যাচাই শুরু হয়। পুনর্গঠিত কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ পাওয়া ৫ হাজার ৩৮৫ জনের যোগ্যতা মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৪ হাজার ৯৫৩ জন পরীক্ষায় অংশ নেননি। পরে অনুপস্থিতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গসহ বিভিন্ন কারণে কয়েক হাজার কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের একটি অংশ বর্তমানে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছেন। তাঁদের নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতেই বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদনে এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগের বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, প্রকৃত অবস্থা জানতে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত ব্যাংক নিজেই নেওয়ায় এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি সম্পৃক্ততার সুযোগ সীমিত বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।