জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০টি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এসব কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মসূচির বিষয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, প্রথম দিনের কর্মসূচিতে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং বিশ্বমঞ্চে নির্বাচিত সরকারপ্রধান হিসেবে দেশের মর্যাদা আরও বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর দিনের কর্মসূচিতে দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বৈঠকের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ, রোহিঙ্গা সংকট এবং উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা ছিল।
সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজনে বিশ্বনেতা ও তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে দেওয়া প্রাতরাশ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন।
দিনের কর্মসূচিতে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে ও মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, পর্যটন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে এসব বৈঠকে আলোচনা হয়।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেন তারেক রহমান। এতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণ জানান এরদোয়ান।
হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমের সঙ্গে বৈঠকেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হাইতির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দেশটির জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এদিকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও একাধিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহের সঙ্গে আলোচনায় রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়।
বুধবার রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের একটি সাইড ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এতে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বাণিজ্য, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সংস্কার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ সরকারের বিভিন্ন নীতি ও অগ্রাধিকার নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
মাহদী আমিন জানান, নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক এবং মেটার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি বৈঠক হয়নি। তবে মেটার সঙ্গে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছে। এতে বাংলাদেশে মেটার বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রথম দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত বিশ্বনেতা ও তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনাতেও অংশ নেওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান উপস্থিত ছিলেন।