আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা কমাতে কৌশলগত মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল পর্যন্ত তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জি-সেভেন। চার মাস ধরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর সমন্বয়ে এসব জ্বালানি বাজারে সরবরাহ করা হবে।
শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরনের সভাপতিত্বে জি-সেভেন নেতাদের ভার্চুয়াল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জি-সেভেনের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরিকল্পনার প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল বাজারে ছাড়া হবে। একই সঙ্গে জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার বিষয়ে সদস্যরা একমত হয়েছেন। সরবরাহ বাড়াতে নিজস্ব শোধনাগারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন বলেন, আইইএর সমন্বয়ে কৌশলগত মজুত থেকে ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সর্বোচ্চ ১০ কোটি ব্যারেল পর্যন্ত জ্বালানি বাজারে সরবরাহের ব্যবস্থা করতে আইইএ কাজ করবে।
জি-সেভেনের সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টার পর যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলের মজুত নিয়ে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, ডিজেল রপ্তানিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভও দ্রুত পুনরায় পূরণ করা হবে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ইউরোপের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল মজুত রয়েছে এবং বিশ্ববাজারে তারা সরবরাহ বাড়াবে। যুক্তরাষ্ট্রও তেলের সরবরাহ বাড়াবে বলে জানান তিনি। তার মতে, এর ফলে তেলের দাম কমে আসতে পারে।
জি-সেভেনের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও কমেছে। ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ১১ ডলারে নেমে আসে। ডিসেম্বরে সরবরাহের ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে দাঁড়ায় ১০২ দশমিক ২৫ ডলারে।
বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোর এই সমন্বিত উদ্যোগ জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর কতটা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।