বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের নতুন চালান।
আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা সাড় ১২টার দিকে সেনাসদস্যদের কঠোর নজরদারিতে বিশেষ ৩টি লরির বহরে ইউরেনিয়ামের এই চালানটি রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নিরাপদে পৌঁছায়।
কার্গো ফ্লাইট ও আকাশসীমার জটিলতা
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এর আগে শুক্রবার রাতে রাশিয়া থেকে আসা ইউরেনিয়াম বহনকারী বিশেষ কার্গো বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরবর্তীতে আজ সকালে বিশেষ লরিগুলোর বহর কড়া নিরাপত্তায় পাবনার রূপপুরের উদ্দেশে রাজধানী ছেড়ে যায়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউরেনিয়ামের এই চালানটি গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে ইউরেনিয়াম বহনকারী বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজটি পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের সময়মতো অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ফ্লাইটটি পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।
প্রকল্পের অগ্রগতি ও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্তের প্রত্যাশা
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে প্রথম চালানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি দেশে আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে চলতি বছরের মে মাসে সেই জ্বালানি পারমাণবিক চুল্লিতে সফলভাবে স্থাপন করা হয়। শিগগিরই দেশের প্রথম এই পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০১৩ সালে রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ২টি ইউনিটের মাধ্যমে সর্বমোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে রূপপুর প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। মেগা এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি।