সম্প্রতি লিভার ডিটক্স বা শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেওয়ার দাবিতে বাড়িতে কফি দিয়ে এনেমা নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এনেমা মূলত এমন একটি তরল, যা পায়ুপথ দিয়ে অন্ত্রে প্রবেশ করানো হয়। নির্দিষ্ট কিছু চিকিৎসা পরিস্থিতিতে অন্ত্রে জমে থাকা মল পরিষ্কার করতে চিকিৎসকের পরামর্শে এনেমা ব্যবহার করা হয়। তবে চিকিৎসায় ব্যবহৃত সাধারণ এনেমার সঙ্গে কফির কোনো সম্পর্ক নেই এবং কফি এনেমা চিকিৎসাবিজ্ঞানে লিভার ডিটক্সের স্বীকৃত পদ্ধতি নয়।

কফি এনেমার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো ক্যাফেইন ও অন্যান্য উপাদান শরীরে কী পরিমাণে এবং কত দ্রুত শোষিত হচ্ছে, তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। মুখে কফি পান করার তুলনায় পায়ুপথ দিয়ে ক্যাফেইন শোষণের ধরন ভিন্ন হতে পারে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরে গেলে মাথাব্যথা, অস্থিরতা, বুক ধড়ফড়, কাঁপুনি, বমিভাবসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বাড়িতে নিজের মতো করে কফি এনেমা নেওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকির মাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে।

এ ছাড়া এনেমা দেওয়ার সময় ব্যবহৃত তরল বা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত না হলে পায়ুপথ ও অন্ত্রে সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ভুল পদ্ধতিতে তরল প্রবেশ করালে পায়ুপথ বা অন্ত্রের দেয়ালে আঘাতও লাগতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে সংক্রমণ বা আঘাতজনিত জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শুধু শরীর পরিষ্কার বা সতেজ অনুভব করার জন্য এনেমা ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।

অনেকে কফি এনেমার পর সতেজ অনুভব করার কথা বলেন। এর পেছনে ক্যাফেইনের প্রভাব থাকতে পারে, কিন্তু সাময়িক সতেজ লাগা মানেই শরীর থেকে টক্সিন বের হয়ে গেছে এমনটা নয়। লিভার ও কিডনি স্বাভাবিকভাবেই শরীরের বর্জ্য ও বিভিন্ন বিপাকীয় পদার্থ প্রক্রিয়াজাত ও অপসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চিকিৎসকদের মতে, কফি এনেমা লিভার ডিটক্স করার প্রমাণিত উপায় নয়; বরং অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যবহার করলে উপকারের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি। তাই কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য এনেমা প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।