মানুষের পাতা ফাঁদে বিষ খেয়ে ওড়া ভুলে গেল আর্জেন্টিনার সেই শকুন!
একবার যে ভুল করেও বিষ খেয়ে ফেলে সে যেন আর চাইলেই আগের সেই শক্তি ফিরে পায় না । আর্জেন্টিনার এই ভিডিওটি যেন তারই এক নিখুঁত প্রমাণ । বিষাক্ত খাবার খেয়ে মৃত্যুর মুখে পড়েছিল একটি অ্যান্ডিয়ান কনডর, যার নাম ‘অ্যাঞ্জেল’। দীর্ঘ ৫৪ দিনের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পর অবশেষে তাকে আবার মুক্ত আকাশে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু মুক্তি পেয়েই সে উড়তে পারেনি , যেন এই কদিনে সে ডানা মেলে উড়তেই ভুলে গেছে। অ্যাঞ্জেলের সঙ্গে যা ঘটেছিল, তা একদিকে হৃদয়বিদারক, অন্যদিকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বড় সাফল্যের গল্প। মূলত স্থানীয় মানুষের অসচেতনতা এবং একটি মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল পাখিটি। আর্জেন্টিনার মেন্দোজা অঞ্চলের কিছু গবাদি পশু খামারির মধ্যে ধারণা রয়েছে যে, বিশাল আকৃতির অ্যান্ডিয়ান কনডররা তাদের জীবন্ত ভেড়া বা ছাগল শিকার করে। আর এই ধারণার কারণে চিতা বা অন্যান্য শিকারি প্রাণী দমনের জন্য, এমনকি কখনো কনডরকে লক্ষ্য করেও, মৃত পশুর শরীরে কার্বোফুরান বা প্যারাথিয়নের মতো অত্যন্ত শক্তিশালী ও অবৈধ কীটনাশক মিশিয়ে বিষাক্ত টোপ রেখে দেওয়া হয়।আর এখানেই ঘটে ভয়াবহ বিপদ। অ্যান্ডিয়ান কনডর মূলত মৃত প্রাণীর মাংস খেয়ে বেঁচে থাকে। তাই না জেনেই সেই বিষাক্ত মাংস খেয়ে ফেলেছিল অ্যাঞ্জেল। বিষক্রিয়ায় মুহূর্তেই তার শরীর প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সে হারিয়ে ফেলে স্বাভাবিকভাবে ওড়ার ক্ষমতা। এরই মধ্যে উড়ার চেষ্টা করতে গিয়ে পাথরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে গুরুতর আহত ও পানিশূন্য হয়ে পড়ে সে। পরে আর্জেন্টিনার বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংস্থা ‘ফাউন্ডেশন কুলুঞ্চে’ তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে। এরপর শুরু হয় অ্যাঞ্জেলের দীর্ঘ লড়াই। শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদানের প্রভাব কাটাতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। মানুষের সান্নিধ্য থেকে দূরে রেখে একটি বড় খাঁচায় রাখা হয় তাকে। সেখানে ৫৪ দিন ধরে চলে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও পুনর্বাসন। লক্ষ্য ছিল শুধু তাকে বাঁচানো নয় তার স্বাভাবিক বন্য আচরণ এবং উড়ার ক্ষমতাও ফিরিয়ে দেওয়া। দীর্ঘ চিকিৎসার পর অবশেষে সুস্থ হয়ে ওঠে অ্যাঞ্জেল।এরপর আসে সেই কাঙ্ক্ষিত দিন। মেন্দোজার পাহাড়ি অঞ্চলে তাকে আবার মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করা হয়। ভিডিওতে উড়ে যাওয়ার আগে অ্যাঞ্জেলের যে দ্বিধা দেখা যায়, সেটি ছিল দীর্ঘ বন্দিদশার পর হঠাৎ করে প্রকৃতির আলো-বাতাস ও বিশাল পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা । তারপরই ডানা মেলে সে উড়ে যায় পাহাড়ের আকাশে। অ্যাঞ্জেলের এই ফিরে আসা শুধু একটি পাখির বেঁচে যাওয়ার গল্প নয় এটি মনে করিয়ে দেয়, মানুষের সামান্য অসচেতনতা যেমন একটি প্রাণের জীবন কেড়ে নিতে পারে, তেমনি মানুষের সচেতন প্রচেষ্টাই আবার তাকে ফিরিয়ে দিতে পারে তার স্বাধীনতা।আর ঘটনাটি ঘটে ছিল ২০২৩ সালের ৩ নভেম্বর।
Comments
Be the first to comment.