টানা বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠে গেছে। নতুন করে ভয়াবহ এক দুর্যোগের মুখে নেপাল। গত মাসের ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে দেশটি এখনও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এর মধ্যেই নতুন করে বন্যা, ভূমিধস ও তুষারধসের কবলে পড়েছে দেশটি। এরই মধ্যে হিমলুং পর্বতে তুষারধসে অন্তত ১০ জন নেপালি পর্বতারোহী ও গাইড নিখোঁজ হয়েছেন। আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
নাওয়ালপরাসি ওয়েস্ট ও সপ্তরী এলাকায় নারায়ণী ও সপ্তকোশী নদীর পানিতে ৩৮৯টি বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। বুটওয়ালে লক্ষা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নদীতীরের ছয়টি বাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাতারাতি প্রায় এক হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চিতওয়ানে দেবঘাট এলাকায় নারায়ণী নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। সেখানে বিপৎসীমা ৯ মিটার হলেও নদীর পানি উঠেছে ৯ দশমিক ২৩ মিটারে। রাপ্তি নদীর পানিও বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে। টানা বৃষ্টিতে চিতওয়ানের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধস হয়ে সড়ক বন্ধ এবং যান চলাচল বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
তবে দুর্যোগের ঝুঁকি শুধু দক্ষিণ ও মধ্য নেপালে সীমাবদ্ধ নয়। প্রত্যন্ত কারনালি অঞ্চলেও নদীর পানি বাড়ছে। ভূমিধসে বন্ধ হয়ে গেছে কারনালি হাইওয়ে, নবানগরমাদি সড়ক এবং কারনালি করিডরের কয়েকটি অংশ। বন্যা ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই নতুন জরুরি পরিস্থিতির মধ্যেই নেপাল এখনও আগের ভয়াবহ দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
এই আবহাওয়া এমন সব জনপদের জন্য নতুন করে বড় ঝুঁকি তৈরি করছে, যারা এরই মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই করছে। আর হিমালয়ের উঁচু এলাকায় আরও একটি জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হিমালয়ের বেস ক্যাম্পে তুষারধসের পর নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১৪ জন রান্নার কর্মী এবং দুইজন পর্বতারোহণ গাইড ছিলেন। ওই দুই গাইডের মরদেহ আজ বিকেলে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।
তিব্বত সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই পর্বতশৃঙ্গটির উচ্চতা ৭ হাজার ১০০ মিটারেরও বেশি। তুষারধসের কয়েক দিন আগ থেকেই সেখানে ভারী তুষারপাত হচ্ছিল। বসন্তকালীন পর্বতারোহণের মৌসুম নেপালের আয়ের অন্যতম বড় উৎস। এ বছর শত শত পর্বতারোহণের অনুমতিপত্র দেওয়া হয়েছিল। তবে ভারী তুষারপাতের কারণে মানাসলুতে পর্বতারোহীদের অভিযান বাতিল করে ফিরে যেতে হয়েছে। অন্নপূর্ণা পর্বতমালার দিকের ট্রেকিং রুটও বন্ধ করা হয়েছে।
ভয়াবহ বন্যার ধাক্কা সামলে এখনও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে নেপাল। এর মধ্যেই নতুন করে বৃষ্টি, ভূমিধস ও তুষারধস দেশটির সামনে আরেকটি বড় সংকট তৈরি করেছে। হিমালয়ের দুর্গম ভূখণ্ড কত দ্রুত ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে, সর্বশেষ এই পরিস্থিতি তারই এক কঠিন স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।