সম্প্রতি আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপালের ভয়াবহ পরিস্থিতি এখন আর কারও অজানা নয়। এমন দুর্যোগের মুহূর্তে ক্রিকেটের মাধ্যমে দেশটির মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায় নেপাল। আর সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের কাছে এই প্রস্তাব দেন। দুর্যোগের শোক কাটিয়ে উঠতে নেপালের মানুষের জন্য এমন একটি সিরিজ অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে দেশটি। বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ প্রসঙ্গে নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী বলেন, বিশেষ করে সাম্প্রতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত আমাদের জনগণের জন্য অনুপ্রেরণা প্রয়োজন। আমরা বাংলাদেশকে একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজনের অনুরোধ করছি। আমাদের দল বাংলাদেশ সফরে যেতে পুরোপুরি প্রস্তুত। একইভাবে বাংলাদেশ দলকে নেপালে স্বাগত জানাতেও আমরা প্রস্তুত।”

২০১৪ ও ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চ ছাড়া বাংলাদেশের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত বড় কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার সুযোগ হয়নি নেপালের। আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়েও দুই দলের অবস্থানে রয়েছে বড় পার্থক্য। ক্রিকেটীয় শক্তিমত্তায় নেপালের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে বাংলাদেশ।তবে পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় হয়ে উঠছে মানবিকতার বিষয়টি। নেপালের এই দুর্যোগের সময়ে পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পেলে ক্রিকেটের মাধ্যমে বন্ধুত্বের বার্তাই ছড়িয়ে দিতে পারবে বাংলাদেশ। আর সরকারের ইতিবাচক সাড়ায় খুশি দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরাও।

নেপালের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, আমরা ক্রীড়া কূটনীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এবং বিভিন্ন খেলায় সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইতোমধ্যে কাজ করছি। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চিঠি দেওয়ার জন্য নেপালের রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করেছেন তিনি। চিঠি পাওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন আমিনুল হক। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নেপালের এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও বাড়বে। একই সঙ্গে ক্রিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও নেপালের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও পাবে নতুন মাত্রা।