সাগরে ছুটে চলা ট্রলার, জালে মাছের আশায় অপেক্ষা - কিন্তু বাস্তবতা এখন ভিন্ন। মাছের সংকটের সঙ্গে নতুন করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি যেন উপকূলের জেলেদের জীবনে নামিয়েছে আরেক দফা দুশ্চিন্তা। বাড়তি খরচে সমুদ্রে গিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত আয়।
পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো জেলে বছরের পর বছর নদী ও সাগরের ওপর নির্ভর করেই জীবিকা চালিয়ে আসছেন। জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নদী-সাগরে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় তাদের আয় নেমে এসেছে তলানিতে।
আগে যেখানে একটি ট্রিপ শেষে কিছুটা লাভের মুখ দেখতেন জেলেরা, এখন সেখানে জ্বালানি খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। সারাদিন সাগরে জাল ফেলেও অনেক সময় মিলছে অল্প কিছু মাছ। সেই মাছ বিক্রির টাকা থেকে নৌকার তেল, বরফ, শ্রমিকের খরচ মেটাতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে সব।
এর মধ্যেই নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। পটুয়াখালীর মহিপুর ও আলীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য অবতরণকেন্দ্রগুলোতেও দীর্ঘদিন ধরে চলছে ইলিশের সংকট। ফলে জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের লোকসানের পাল্লা দিন দিন ভারী হচ্ছে।
জেলেদের দাবি, ট্রলার নিয়ে সমুদ্রে যেতে সবচেয়ে বড় ব্যয়ের জায়গা জ্বালানি তেল। ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিটি মাছ ধরার যাত্রায় বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। মাছের দেখা না মিললে এই খরচ তাদের আরও বড় ক্ষতির মুখে ফেলছে।
ট্রলার মাঝি ও জেলেদের ভাষ্য, একদিকে আয় কমছে, অন্যদিকে বাড়ছে খরচ। অনেকেই এখন ধারদেনায় জড়িয়ে পড়ছেন। তাদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে অনেক জেলে বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তনের কথাও ভাবতে পারেন।
জেলেদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে জ্বালানি তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনা অথবা বিশেষ সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলেদের সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এখন সংকট কাটিয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অপেক্ষায় উপকূলের হাজারো জেলে পরিবার।