জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির দাবি, জনস্বার্থ বিবেচনা না করে গত কয়েক মাসে একাধিক দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলেও একবারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির পরিবর্তে ধাপে ধাপে ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে দাম সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি : জনস্বার্থ ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এবি পার্টির নেতারা।
সম্প্রতি সরকার ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে। নতুন দরে ডিজেল ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা হয়েছে। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব কৃষি, পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে পড়তে পারে। বিশেষ করে সামনে বোরো মৌসুম থাকায় সেচ ও কৃষিযন্ত্র পরিচালনার ব্যয় বাড়লে তা কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়েও প্রভাব ফেলতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের নীতির সমালোচনা করে মঞ্জু বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বাড়লেও সেই চাপ একবারে জনগণের ওপর দেওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, মানুষের ওপর বড় ধরনের মূল্যচাপ না দিয়ে সহনীয় মাত্রায় ধাপে ধাপে দাম সমন্বয় করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন দলটির ছায়া সরকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান। তিনি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আর্থিক ক্ষতির হিসাবের পাশাপাশি ফ্রেইট, ইন্স্যুরেন্স, কর ও বিতরণ ব্যয়সহ জ্বালানি আমদানির পূর্ণাঙ্গ ব্যয়ের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান।
নোমান আরও বলেন, বিপিসির অপচয়, সিস্টেম লস ও জ্বালানি চুরি বন্ধে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অডিট করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জ্বালানি খাতের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সংকট মোকাবিলায় সংবাদ সম্মেলন থেকে ১১ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে এবি পার্টি। এর মধ্যে কৃষি ও গণপরিবহনে ব্যবহৃত ডিজেলের জন্য পৃথক মূল্যনীতি, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা এবং সংকটকালে আমদানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া প্রকৃত কৃষকদের জন্য বিশেষ ডিজেল সহায়তা, সীমান্তপথে জ্বালানি পাচার ঠেকাতে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা এবং জরুরি জ্বালানি তহবিল গঠনেরও দাবি জানিয়েছে দলটি।
সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুল হালিম খোকন ও উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খানসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।