পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত ও নাব্য সংকটের কারণে রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া-পাবনার নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। সোমবার দুপুর থেকে বুধবার পর্যন্ত এ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রী ও যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। একই সঙ্গে ঘাট সংকট, নাব্যতা কমে যাওয়া ও নদীর স্রোতের কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটেও ফেরি পারাপার ব্যাহত হচ্ছে।
ধাওয়াপাড়া বিআইডব্লিউটিসির সহকারী ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম জানান, তীব্র স্রোতের কারণে সোমবার বিকেল থেকে ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ রুটে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্রোতের তীব্রতা কমলে পরিস্থিতি বিবেচনা করে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু করা হবে।
যাত্রী ও চালকদের অভিযোগ, শুধু নদীর স্রোত নয়, ঘাটের অব্যবস্থাপনা ও ফেরির স্বল্পতাও তাদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ নৌরুটে মানসম্মত ফেরির সংকট রয়েছে। একটি পুরোনো ও নিম্নমানের ফেরির ওপর নির্ভর করে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। ফলে নদীর পরিস্থিতি কিছুটা খারাপ হলেই ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এর আগেও তীব্র স্রোতের কারণে গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ১৪ দিন ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও ফেরি বন্ধ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা এমদাদ হোসেন বলেন, নদী উত্তাল থাকলে ফেরি পারাপারে সময় ও জ্বালানি দুটিই বেশি লাগে। তাঁর অভিযোগ, পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ার কারণ দেখিয়েও কখনো কখনো ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
অন্যদিকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটেও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ফেরি চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে দৌলতদিয়ার ৪ নম্বর ঘাটে পাটুরিয়া থেকে আসা রোরো ফেরি ‘গোলাম মওলা’ ভেড়ানোর চেষ্টা করে। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করেও তীব্র স্রোতের কারণে ফেরিটি নিরাপদে ঘাটে ভিড়তে পারেনি। পরে সেটি পাটুরিয়ার দিকে ফিরে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, ফেরিটি ঘাটে ভেড়ানোর সময় ৪ নম্বর ঘাটের পন্টুনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁদের মতে, এ ঘটনায় নদীর প্রতিকূল পরিস্থিতির পাশাপাশি ঘাটের অবকাঠামোগত দুর্বলতাও সামনে এসেছে।
দৌলতদিয়া প্রান্তের সাতটি ফেরিঘাটের মধ্যে নাব্য সংকটের কারণে ৭ নম্বর ঘাট বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ঘাটটি চালু করতে এখনো ড্রেজিং শুরু হয়নি। ফলে সচল ঘাটগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। এর সঙ্গে নদীর স্রোত থাকায় ফেরিগুলোকে ঘাটে নিরাপদে ভেড়াতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
ঢাকাগামী এক পণ্যবাহী গাড়ির চালক বলেন, দৌলতদিয়া প্রান্তে দীর্ঘদিন ধরেই ঘাট সংকট রয়েছে। অনেক সময় ঘাটে পৌঁছেও ফেরি ভেড়াতে না পারায় যানবাহন নিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। তিনি বন্ধ থাকা ঘাটগুলো দ্রুত চালু করার পাশাপাশি নাব্যতা সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
দৌলতদিয়া ঘাট শাখার বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. সালাউদ্দিন বলেন, নদীতে বর্তমানে স্রোত রয়েছে এবং ঘাটেও কিছু সমস্যা আছে। তবে দৌলতদিয়া ঘাটে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের বাড়তি চাপ নেই।
তিনি জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৮টি ফেরি রয়েছে। এর মধ্যে পালাক্রমে ৯টি ফেরি চলাচল করছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, নদীর স্রোত, নাব্যতা ও ঘাটের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান না করলে সামনে ফেরি চলাচলে আরও বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাঁরা ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ রুটে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ফেরি দেওয়ার পাশাপাশি দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটের বন্ধ ঘাটগুলো চালু, প্রয়োজনীয় এলাকায় জরুরি ড্রেজিং এবং ক্ষতিগ্রস্ত ঘাট-পন্টুন দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।