পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে বঙ্গোপসাগরে ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পাঁচ দিন ধরে ১৮ জন জেলে আটকা পড়ে আছেন। চারদিকে উত্তাল সাগর ও চরম বৈরী আবহাওয়ার কারণে একাধিক চেষ্টার পরও তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ট্রলারের মালিক ও মাঝি হানিফ মিয়ার নেতৃত্বে ১৮ জনের একটি জেলে দল ভোলার চরফ্যাশন ঘাট থেকে মাছ ধরতে বঙ্গোপসাগরে যান। ওই দিন রাতেই ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। এরপর থেকে ট্রলারটি রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচর উপকূলের আশপাশের সাগরে ভাসছে।
যোগাযোগ থাকলেও উত্তাল সাগরে ব্যর্থ উদ্ধারচেষ্টা বিপদে পড়া জেলেদের উদ্ধারে উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ এবং স্থানীয় ট্রলার মালিকদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সাগরের ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মাঝি হানিফ মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান জানান, মঙ্গলবার রাতেও তাঁর বাবার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল থাকায় আশপাশে থাকা অন্য মাছ ধরার ট্রলারগুলোর কাছে সহযোগিতা চেয়েও পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি জানার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহায়তার আকুতি জানান স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী জুনায়েত হাসান। তিনি বলেন, “পাঁচ দিন হয়ে গেল, এখনো তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আমরা বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করছি, কিন্তু সাগরের উত্তাল পরিস্থিতির কারণে কেউ এগিয়ে যেতে পারছে না।”
অবস্থান নিশ্চিতে জটিলতা ও নৌবাহিনীর সাহায্য প্রার্থনা উদ্ধার তৎপরতায় প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রলারটির সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করতে না পারা। কোস্টগার্ডের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, জেলেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে একবার ফোনে সংযোগ মিললেও পরে আর কেউ ফোন রিসিভ করেননি। পরে ট্রলার মালিকের মেয়ের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ট্রলারটি সোনারচর উপকূলের আশপাশের সাগরে ভাসছে; তবে বর্তমান অবস্থান উপকূল থেকে ঠিক কত দূরে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কোস্টগার্ড কর্মকর্তা আরও জানান, স্থানীয় ও সোনারচর এলাকার বোট মালিকেরা সমুদ্র অশান্ত থাকায় উদ্ধার অভিযানে যেতে রাজি হননি। ফলে বিষয়টি কোস্টগার্ডের সদর দপ্তরকে অবহিত করে উদ্ধারকাজে নৌবাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
প্রশাসন ও পুলিশের বক্তব্য রাঙ্গাবালী থানার ইন্সপেক্টর (চার্জ অফিসার) রিয়াজ মুন্সি জানান, সাগরে বৈরী আবহাওয়া এবং নদীগুলো উত্তাল থাকার কারণেই মূলত জেলেদের উদ্ধার করা যাচ্ছে না।
উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান বলেন, “উদ্ধারের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুখবর নেই। নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে আলোচনা করেও কোনো উপায় পাওয়া যাচ্ছে না।”