উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের বাড়তি চাপে রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অক্টোবর ২০২৬-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০.৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ৩.২ শতাংশে।
অন্যদিকে, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশকে প্রায় ২৫.৯৯ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ করতে হবে। এতে আমদানি ব্যয় মেটানো, ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে চাপ বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৬.৩৯ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ ছিল ৩১.৫৮ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, রিজার্ভের ওপর চাপ সামাল দিতে রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয় বাড়ানো, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বৈদেশিক ঋণের কার্যকর ব্যবস্থাপনা জরুরি। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়াতে হবে।
সব মিলিয়ে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কম প্রবৃদ্ধি ও বাড়তি ঋণ পরিশোধের দায় সামলে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরানোই বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।