যে মানুষগুলো প্রতিদিন শহরের ময়লা পরিষ্কার করে আমাদের বসবাসের উপযোগী করে তোলেন, সেই মানুষগুলোর জীবনই যদি অগোছালো থেকে যায় তাহলে কেমন শহর গড়ছি আমরা? পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের এই বাস্তবতাই সামনে তুলে ধরলেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ‘নিজ আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখি, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ি’ কর্মসূচিতে গিয়ে শুধু বক্তব্য দেননি, নিজেও পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে ড্রেন ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার এবং স্প্রে করার কাজে অংশ নেন। সেখানেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের সঠিক মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
কিন্তু দিনের পর দিন প্রায় আট ঘণ্টা কঠোর পরিশ্রম করেও তাঁদের মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা সেই শ্রমের তুলনায় খুবই কম বিষয়টি নিয়েই আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। আর সবচেয়ে মানবিক কথাটা আসে এরপর। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের উদ্দেশে ইশরাক বলেন, হয়তো এখনই তাঁদের জন্য অনেক কিছু করে দিতে পারবেন না। কিন্তু তাঁদের কষ্ট ও শ্রম তিনি মনে-প্রাণে ধারণ করেন এবং ভবিষ্যতে তাঁদের জন্য কী করা যায়, সে চেষ্টা করবেন। আর এখনে নিজের বাবার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ইশরাক আরও বলেন, তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অনেক কলোনিতে গিয়েছেন, তাঁদের জীবনযাপনের পরিবেশ কাছ থেকে দেখেছেন। তাই শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের মূল্যায়ন নয়, তাঁদের জীবনমানেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে এলাকাবাসীর প্রতিও তাঁর আহ্বান শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না। নিজের আঙ্গিনা নিজেকেও পরিষ্কার রাখতে হবে। তাহলেই গড়ে উঠবে সত্যিকারের পরিচ্ছন্ন নগর।
নতুন সংসদ সদস্য হিসেবে এবং মন্ত্রিসভার দায়িত্ব পাওয়ার পর কাজ করতে গিয়ে ভুলত্রুটি হতে পারে বলেও স্বীকার করেন তিনি। তবে সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে মানুষের সঠিক সেবা দেওয়ার চেষ্টা করার কথাও জানান। আর একটি পরিচ্ছন্ন শহর শুধু ঝকঝকে রাস্তা আর পরিষ্কার ড্রেনের নাম নয় যে মানুষগুলো সেই শহরকে প্রতিদিন পরিষ্কার রাখেন, তাঁদের জীবনও সম্মান আর মর্যাদায় ভরে ওঠাই একটি সত্যিকারের পরিচ্ছন্ন নগরের পরিচয়।