যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মানবপাচারবিষয়ক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রকাশিত ট্রাফিকিং ইন পারসনস (টিআইপি) প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে আগের মতোই দ্বিতীয় স্তরে (টায়ার-২) রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবপাচার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম মান পুরোপুরি অর্জন করতে না পারলেও বাংলাদেশ সরকার এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির চেষ্টা করেছে। মানবপাচারবিরোধী আইন আরও শক্তিশালী করতে ২০২৬ সালে নতুন অধ্যাদেশও প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অভিবাসী চোরাচালান ও জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করার বিষয়গুলো আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে মানবপাচার প্রতিরোধে অগ্রগতি থাকলেও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং অভিবাসী শ্রমিকদের শোষণ বন্ধে এখনো ঘাটতি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া বাড়লেও দণ্ডিত অপরাধীর সংখ্যা কমেছে।
প্রতিবেদনে বিদেশগামী শ্রমিক, নারী, শিশু ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবপাচারের ক্ষেত্রে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশি শ্রমিকদের উচ্চ নিয়োগ ফি, ঋণের বোঝা, ভুয়া চাকরির প্রস্তাব এবং দালালদের প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি বেতন না দেওয়া, চুক্তি ভঙ্গ এবং জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।