লিওনেল মেসি নিজেই যার পার্সোনাল কোচ, আর মেন্টর! যে ছেলেটার চোখের সামনেই বেড়ে উঠেছে ফুটবলের সর্বকালের সেরা জাদুকরের গল্প, তারও  বিশ্বসেরা হওয়ার স্বপ্ন দেখাটা তো অবাক করার মতো কিছু নয়। মেসির বিদায়ের পর হয়তো তৈরি হচ্ছে আরেক মেসি! সবকিছু ঠিক থাকলে, ২০৩০ বিশ্বকাপের আগেই দেখা যেতে পারে মেসির বড় ছেলে থিয়াগো মেসিকে বিশ্ব মঞ্চে !

ছোটবেলা থেকেই বাবার পায়ের জাদু দেখে বড় হয়েছে থিয়াগো। তবে সে এখন আর শুধু লিওনেল মেসির ছেলে হিসেবে মাঠে নেই, ধীরে ধীরে তৈরি করছে নিজের আলাদা ফুটবল পরিচয়। বর্তমানে ইন্টার মায়ামির একাডেমিতে খেলা থিয়াগোর বয়স মাত্র তেরো। অথচ তার খেলার ধরন নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। বল পাওয়ার আগেই চারপাশ দেখে নেওয়া, সঠিক সতীর্থকে খুঁজে বের করা এবং কোথায় পাস দিলে আক্রমণ আরও নিখুঁত হবে এসব ক্ষেত্রেই ফুটে উঠছে তার ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তা। আর তার কোচ ও মেন্টর হিসেবে পাশে রয়েছেন স্বয়ং তার বাবা, লিওনেল মেসি!

মেসি শুধু গোল করার জন্য কিংবদন্তি হয়ে ওঠেননি। তিনি ছিলেন এমন একজন ফুটবলার, যিনি মাঠের অন্য খেলোয়াড়দের চেয়ে কয়েক মুহূর্ত  আগেই যেন পুরো পরিস্থিতি বুঝে ফেলতেন। থিয়াগোর মধ্যেও যদি সেই ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তা আরও বিকশিত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সে কত দূর যেতে পারে, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা!

একবার কল্পনা করুন , ২০৩০ বিশ্বকাপ! একই আর্জেন্টিনার জার্সি, গ্যালারিভর্তি লাখো  সমর্থক, আর মাঠে এক তরুণ মেসি! তখন থিয়াগোর বয়স হবে সতেরো বছর। সেই বয়সেই যদি সে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা করে নিতে পারে, তাহলে সেটি হয়ে উঠবে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আবেগঘন উত্তরাধিকারগুলোর একটি? যে বাবা আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন পূরণ করেছেন, সেই বাবার ছেলেও হয়তো একদিন একই জার্সি গায়ে জড়িয়ে লিখবে নিজের গল্প! আর সেদিন গ্যালারিতে যদি আবারও ধ্বনিত হয় মেসি! মেসি! মেসি!, তাহলে সেই মুহূর্তের আবেগ ভাষায় প্রকাশ করা কি আদৌ সম্ভব হবে?

তবে  শুধু মেসির ছেলে হলেই কেউ নতুন মেসি হয়ে যায় না! থিয়াগোর সামনের পথ এখনো অনেক দীর্ঘ। তাকে বয়সভিত্তিক ফুটবলে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে, পেশাদার ফুটবলে জায়গা করে নিতে হবে এবং প্রত্যাশার বিশাল চাপ সামলে বারবার নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।এটা  হতে পারে থিয়েগোর  জীবনের সবচেয়ে বড় চাপ  কারণ তার নামের সঙ্গে মেসি আছে এটাই যেমন বড় সুবিধা, আর এ কারণেই  পুরো বিশ্ব যখন তার দিকে তাকিয়ে থাকবে, তখন তাকে শুধু কিংবদন্তির ছেলে হিসেবে নয়, নিজের যোগ্যতায় একজন ফুটবলার হিসেবেও পরিচিত হতে হবে। 

 হয়তো এখনো অনেক গল্প  বাকি! আর কোনো একদিন যদি বাবার মতোই আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়ায় থিয়াগো, তাহলে সেটি শুধু একজন ছেলের ফুটবলার হয়ে ওঠার গল্প হবে না হয়ে উঠবে এক কিংবদন্তির উত্তরাধিকার বয়ে নিয়ে যাওয়ার আর এক মহা কাব্যিক গল্প!