বিশ্বকাপ ফাইনাল হেরেও এভাবে কাঁদেনি আর্জেন্টিনা, যতটা কাঁদছে মেসির বিদায়ে। একটি বাঁশির সঙ্গে শেষ হয়ে গেল একটি যুগ। আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচ - আর সেই বিদায়ে ভেঙে পড়ল গোটা দল। বিশ্বকাপের ফাইনাল হারের পরও হয়তো এমন অশ্রুসিক্ত দৃশ্য দেখা যায়নি, যতটা দেখা গেল প্রিয় কিংবদন্তির বিদায়ের দিনে।
আর সেই আবেগের শুরুটা যেন মেসির নিজের পরিবার থেকেই। স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও মা সেলিয়া মারিয়া করতালিতে বিদায় জানালেন তাদের প্রিয় মানুষটিকে। গ্যালারির সেই মুহূর্তে মেসিকে ঘিরে ছিল ভালোবাসা আর গর্ব - একজন স্বামী, একজন ছেলে আর একজন ফুটবল কিংবদন্তিকে একসঙ্গে বিদায় জানানোর দৃশ্য।
তবে পরিবারের পর মেসির বিদায়ের সবচেয়ে হৃদয়ছোঁয়া দৃশ্য হয়ে থাকল অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার সঙ্গে তার আলিঙ্গন। একসময় জাতীয় দলের সতীর্থ, মাঠের সঙ্গী, বিশ্বকাপজয়ী বন্ধু - ডি মারিয়ার বুকেই যেন নিজের কান্না লুকালেন মেসি। আলাদা হতে যেন মনই চাইছিল না কারও। সেই আলিঙ্গনে ছিল কত বছরের স্মৃতি, কত জয়-পরাজয়, কত আনন্দ আর কত অশ্রু - মুহূর্তটা যেন বলে দিল, পুরোনো বন্ধুত্বে মরিচা ধরে না কখনো।
আর বিদায়ের আগে মাঠেও নিজের চেনা গল্পটাই লিখেছেন মেসি। আজকের ম্যাচে আর্জেন্টিনার তিন গোলেই ছিল তার অবদান - একটিতে গোল, অন্যগুলোতেও সরাসরি জড়িয়ে থেকে শেষ ম্যাচটাকেও বানিয়ে নিলেন নিজের মতোই স্মরণীয়। যদিও মেসির জন্য এমন পারফরম্যান্স নতুন কিছু নয়, আর্জেন্টিনার জন্যও নয় - কারণ বছরের পর বছর এই দলকে সামনে থেকে পথ দেখিয়েছেন তিনিই।
তাই গোলের পর উল্লাস থাকলেও ম্যাচ শেষে সেই হাসিকে গ্রাস করল বিদায়ের অশ্রু। যে মানুষটি এতদিন গোল এনে দিয়েছেন, ম্যাচ জিতিয়েছেন, স্বপ্ন দেখিয়েছেন - আজ তাকেই বিদায় জানাতে হলো সতীর্থদের। আনন্দের দিন ফুরিয়ে যায়, স্মৃতির দিন ফুরোয় না।
শুধু মেসি নন, সতীর্থদের চোখেও তখন একই জল। কেউ জড়িয়ে ধরছেন, কেউ সান্ত্বনা দিচ্ছেন, কেউ আবার নিজের আবেগটাই সামলাতে পারছেন না। কারণ মেসির বিদায় মানে শুধু একজন ফুটবলারের বিদায় নয় - এটা আর্জেন্টিনার একটি প্রজন্মের আবেগের বিদায়।
ফুটবলে অনেক জয় আসে, অনেক রেকর্ড ভাঙে, অনেক ট্রফি হাতে ওঠে। কিন্তু কিছু বিদায় থাকে, যা কোনো ট্রফির পাল্লায় মাপা যায় না। মেসির এই বিদায়ও তেমনই - কিংবদন্তিরা চলে যান, কিন্তু তাদের গল্প থেকে যায়। আর আর্জেন্টিনার চোখের এই জল যেন বলে দিল, মেসি শুধু তাদের দলের একজন খেলোয়াড় ছিলেন না - তিনি ছিলেন তাদের শৈশব, তাদের স্বপ্ন, তাদের ভালোবাসার একটি অংশ।