কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার লোমহর্ষক কারণ উদঘাটন করেছে পুলিশ। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, মূলত অপ্রতিমের ব্যবহৃত দামী আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই কিশোরকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এসব তথ্য জানান।
পরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ডের বিবরণ আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, এটি একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’। অপ্রতিমকে কৌশলে বাসা থেকে মেসেজ পাঠিয়ে হত্যা সংঘটিত হওয়ার স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ঘাতকরা তার মাথায় বাঁশ দিয়ে বেধড়ক আঘাত করে। বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় অপ্রতিমকে ঘটনাস্থলেই ফেলে রাখা হয়, সেখানেই তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
আটক ও আইফোন উদ্ধার এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন—মো. তুহিন, সিয়াম, শাহরিয়া আনাস ও মো. ফাহিম। তাঁদের সবার বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে তুহিনকে আটক করা হয়। এই তুহিনের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরিসহ আগে থেকেই নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, তুহিন, সিয়াম ও কামরুল 직접 বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করে অপ্রতিমকে হত্যা করে। এই তুহিনই মেসেজ পাঠিয়ে অপ্রতিমকে বাসা থেকে নিয়ে গিয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের পর তার কাছ থেকেই অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে ফাহাদের বিষয়ে এখনও যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।