একটা সময় ছিল, পরিচিত মানুষের ফোন নম্বর মনে রাখতেই হতো। ছোটখাটো হিসাব করতে ভরসা ছিল নিজের মস্তিষ্কে। কিন্তু সময় বদলেছে, বদলেছে অভ্যাসও। এখন তথ্য মনে রাখা থেকে শুরু করে জটিল হিসাব, এমনকি লেখালেখির কাজেও আমাদের নির্ভরতা বাড়ছে প্রযুক্তির ওপর। কিন্তু এই নির্ভরতা কি অজান্তেই কমিয়ে দিচ্ছে নিজের মস্তিষ্কের ব্যবহার?
ধরুন, অফিসের একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। হাতে সময় কম, কাজের চাপ বেশি। সমাধান হিসেবে এআইয়ের সাহায্য নিলেন, কয়েক মিনিটেই তৈরি হয়ে গেল পুরো প্রতিবেদন। আপাতদৃষ্টিতে কাজ সহজ, সময়ও বাঁচল। কিন্তু সেই প্রতিবেদনের তথ্য কিংবা হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠলে, যদি নিজের কাছেই উত্তর না থাকে, তাহলে কাজটি আসলে কতটা আয়ত্তে এলো?
মানুষের চিন্তা, স্মৃতি কিংবা সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব প্রযুক্তির হাতে তুলে দেওয়ার এই প্রবণতাকে মনোবিজ্ঞানে বলা হয় কগনিটিভ অফলোডিং। এর মাধ্যমে মস্তিষ্কের ওপর চাপ কমানো সম্ভব। তবে যখন প্রয়োজনীয় চিন্তাটুকুও নিজে না করে যন্ত্রের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, তখন কমতে পারে নিজে থেকে ভাবার অভ্যাস। আর সেখানেই তৈরি হয় উদ্বেগের জায়গা।
প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা থামানো সম্ভব নয়, বরং এর সঠিক ব্যবহারই সময়ের দাবি। তবে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর যখন এআইয়ের কাছে খুঁজি, তখন নিজের ভেতরে উত্তর খোঁজার চর্চাটাও কি হারিয়ে ফেলছি না? মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তি তথ্য দিতে পারে, কাজ সহজ করতে পারে; কিন্তু সেই তথ্য বোঝা, বিশ্লেষণ করা আর সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বটা শেষ পর্যন্ত নিজেরই।