বিশ্ববাজারে ব্যক্তিগত কম্পিউটার বা পিসি সরবরাহে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) বিশ্বজুড়ে ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আইডিসির  প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই তিন মাসে বিশ্ববাজারে মাত্র ৬ কোটি ২৭ লাখ ইউনিট পিসি সরবরাহ করা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৭ কোটি ৮৫ লাখ ইউনিট। সাধারণত বছরের এই সময়ে নতুন শিক্ষাবর্ষ ও উৎসবের মৌসুমে কম্পিউটারের চাহিদা বাড়লেও, এবার চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো।

বাজারের এই নজিরবিহীন মন্দার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে ‘পুল–ইন হ্যাংওভার’ বা আগাম পণ্য মজুতের প্রবণতাকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকেরা। বছরের শুরুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা  প্রযুক্তির কারণে কম্পিউটারের মেমোরি ও স্টোরেজ পার্টসের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির হাত থেকে বাঁচতে নির্মাতা ও বিক্রেতারা বছরের প্রথম ছয় মাসেই বিপুল পরিমাণ পিসির অর্ডার দিয়ে গুদামজাত করেন। এর ফলে বর্তমানে বিক্রেতাদের কাছে প্রচুর অবিক্রীত পণ্য জমে থাকায় তারা নতুন করে কোনো অর্ডার দিচ্ছেন না, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কারখানার সরবরাহে।

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে পিসি সরবরাহ কমেছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ, যা বাজারের স্বাভাবিক ধারার সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এর পাশাপাশি কম্পিউটারের যন্ত্রাংশের প্রকৃত মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নতুন পিসির দামও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাড়তি দামের কারণে সাধারণ ভোক্তারা এখন নতুন কম্পিউটার কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন, যা বাজারে সামগ্রিক চাহিদা আরও কমিয়ে দিচ্ছে এবং আগামী দিনগুলোতে পিসির বাজারকে দীর্ঘমেয়াদি মন্দার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এই মন্দার ধাক্কা লেগেছে বৈশ্বিক বাজারের প্রায় সব বড় কম্পিউটার ব্র্যান্ডের ওপর। তবে প্রতিষ্ঠানভেদে এই ক্ষতির হার কিছুটা ভিন্ন। আইডিসির তথ্যমতে, এই প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি ধস নেমেছে এইচপির সরবরাহে, যা গত বছরের চেয়ে ৩০ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। এছাড়া ডেল ২৫ শতাংশ এবং শীর্ষ ব্র্যান্ড লেনোভো ২২ দশমিক ৬ শতাংশ সরবরাহ হারিয়েছে। এর বিপরীতে অ্যাপল ও আসুস তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; অ্যাপলের সরবরাহ কমেছে ১১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং আসুসের কমেছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ।