১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী ঘাতক চক্র এবং ২০২৪ সালের পরাজিত অপশক্তি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে বলে তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী ও গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, “জামায়াতে ইসলামীর প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও মদতেই আজ ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা রাজপথে মিছিল বের করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে।”

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় ঝিনাইদহ শহরের শিশুকুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত এক নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বর্তমান সরকারের সংস্কার ও দেশ গঠনের প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে রাশেদ খান বলেন, “এই সরকারের মেয়াদকালে যদি রাষ্ট্র পুনর্গঠন করা সম্ভব না হয়, তবে ভবিষ্যতেও আর কখনোই রাষ্ট্র পুনর্গঠন হবে না। সরকার বর্তমানে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সঠিক পথেই অগ্রসর হচ্ছে। কিন্তু সরকারের এই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি বিশেষ পক্ষ আওয়ামী লীগকে মাঠে নামানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “সংসদীয় ইতিহাসে জামায়াত কখনো প্রধান বিরোধী দল হতে পারেনি, তবে এবার তারা সংসদের বিরোধী দল হয়েছে। বিরোধী দল হিসেবে তারা সংসদে ‘ছায়াসভা’ (শ্যাডো ক্যাবিনেট) গঠন করেছে, যার মূল কাজ হওয়ার কথা ছিল সরকারকে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী বিষয়ে সহযোগিতা করা এবং যৌক্তিক সমালোচনা করা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত এই ছায়াসভা এখন সরকারের অন্ধ বিরোধিতায় মেতে উঠেছে। তারা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মতো একটি স্পর্শকাতর আন্তর্জাতিক সমস্যাকে রাজনৈতিক পুঁজি বানিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করে বেড়াচ্ছে।”

আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক পুনর্বাসনের বিষয়ে জামায়াতকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রাশেদ খান বলেন, “আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে জামায়াত নানামুখী অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোকে পেছনে থেকে মদত দিচ্ছে। লংমার্চের নামে রাজপথ থেকে সরকার পতনের হুমকি দিচ্ছে তারা। তবে বাস্তব সত্য হলো, জামায়াতের ডাকে জনগণ আর রাজপথে নামবে না।”

আওয়ামী লীগ সম্পর্কে অতীত ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে আবার সক্রিয় করতে জামায়াতের আমির জাতীয় নির্বাচনের আগেই সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু জামায়াত নেতাদের মনে রাখা উচিত— এই আওয়ামী লীগকে যদি কোনোভাবে ফিরতে দেওয়া হয়, তবে তারা ক্ষমতায় ফিরে আবার জামায়াত নেতাদেরই ফাঁসি দেবে। কাজেই, আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জামায়াত নেতাদের অনতিবিলম্বে সতর্ক হতে হবে।”

এর আগে সকালে ঝিনাইদহ শিশুকুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাশেদ খান।

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে উক্ত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।