পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে দেশজুড়ে আলোচিত সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীরের আদালতে আয়োজিত আত্মপক্ষ শুনানিতে অংশ নিয়ে সিয়াম এ দাবি করেন।

শুনানিকালে বিচারক সিয়ামের বিরুদ্ধে আনা যাবতীয় অভিযোগ পড়ে শোনান। অভিযোগ পাঠ শেষে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের আবেদন জানান। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কৌঁসুলি দেলোয়ার জাহান রুমী জানান, আসামির আত্মপক্ষ শুনানি গ্রহণ শেষে আদালত আগামী সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছেন।

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়। মামলাটিতে মোট ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনেরই সাক্ষ্য গ্রহণ করেন বিচারিক আদালত। উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন একই আদালত সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, সিয়ামের বিরুদ্ধে গত বছরের ৫ জানুয়ারি মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। এজাহারে ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক অভিযোগ আনা হয়েছিল।

মামলাটির তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা জাকির হোসেন। তবে দীর্ঘ তদন্ত শেষে চার্জশিটে সিয়ামের জ্ঞাত আয় উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অর্জনের সুস্পষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পান তদন্ত কর্মকর্তা।

পিএসসির অধীনে আয়োজিত বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দীর্ঘ এক যুগ ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত— এমন এক আলোড়ন সৃষ্টিকারী অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রচার করে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোর। ওই প্রতিবেদনটিতে চক্রের ছয় সদস্যের ছবি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনটি প্রচারিত হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পিএসসি চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবন এবং তাঁর ছেলে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের আভিজাত্যপূর্ণ ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের অসংখ্য ছবি ভাইরাল হয়।

ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর বিতর্কিত ওই চক্রের সদস্যদের ধরতে অভিযানে নামে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভিযানে আবেদ আলী ও তাঁর ছেলে সিয়ামসহ মোট ১৭ জনকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে অনুসন্ধানের ভিত্তিতে আবেদ আলী, তাঁর স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পী এবং ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।