চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কালিয়াইশে পিডিবির দোহাজারী-কালিয়াইশ ১০০ মেগাওয়াট পিকিং বিদ্যুৎকেন্দ্রের পোড়া ফার্নেস অয়েলের স্লাজ পাশের মইল্ল্যা খাল হয়ে সাঙ্গু নদে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, এতে খাল, কৃষিজমি ও নদীর পানি দূষিত হচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি খালের পানি কালচে হয়ে গেছে। পানি, গাছ ও লতাপাতায় কালো স্লাজ লেগে আছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে মলেয়াবাদ গ্রামের চাগাচর এলাকায় খালটি সাঙ্গু নদে মিশেছে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, আগে মইল্ল্যা খালের পানি ব্যবহার করে শতাধিক কৃষক প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করতেন। বর্তমানে দূষণের কারণে খালের পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর সংখ্যাও কমেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
২০১১ সালের শুরুতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হয়। চলতি বছরের জুলাইয়ের বন্যায় খাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে জমে থাকা স্লাজ আশপাশের কৃষিজমি ও লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয়রা জানান। এরপর ১২ সেপ্টেম্বর মানববন্ধন করে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়। প্রায় ১০ দিন আগে খাল থেকে স্লাজ অপসারণের কাজ শুরু করেছে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।
কালিয়াইশ ইউপি সদস্য আবদুল গফুর বলেন, শুধু খাল পরিষ্কার করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। বর্জ্যের উৎস, খালে যাওয়ার পথ ও পরিশোধনব্যবস্থা তদন্ত করে স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
নদী গবেষক ও বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মো. মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, মইল্ল্যা খাল সাঙ্গু নদে যুক্ত হওয়ায় বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির সঙ্গে স্লাজ নদে পৌঁছাতে পারে। এতে নদীর পানির গুণগত মান ও জলজ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. আবদুল মান্নান ঘটনাটিকে ‘অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা’ উল্লেখ করে বলেন, অতিবৃষ্টি ও ওভারফ্লোর কারণে পানিমিশ্রিত কিছু ফার্নেস অয়েলের স্লাজ খালে পড়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইসমাইল বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এলাকার জন্য সম্পদ হলেও এর কারণে স্থানীয়রা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। স্থায়ী সমাধানের দাবিও জানান তিনি।
এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিদর্শক মঈনুদ্দিন ফয়সাল জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও দূষিত এলাকা পরিদর্শন করে পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। দূষণ রোধে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।