নোয়াখালী সদর উপজেলায় মাছের বারবিকিউ পার্টিতে অ্যালকোহল ও বিভিন্ন মাদকদ্রব্য মিশিয়ে তৈরি ‘ঝাক্কাস’ নামের পানীয় সেবনের পর মো. সাকিব (২২) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও চারজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে সুধারাম মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে শনিবার সন্ধ্যার পর সদর উপজেলার কাদিরহানিফ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব লক্ষ্মীনারায়ণপুর (হাপারগোড়া) গ্রামের মুসলিম কলোনির মিলনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাকিব ওই কলোনির মৃত এফরান মিয়ার ছেলে। অসুস্থদের মধ্যে মো. টিপু (২৫) ও সাইফুল ইসলাম পাখি (২২) সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। অপর দুজন মো. মনির হোসেন শান্ত (২৩) ও মো. রাসেল (২৫) নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হাপারগোড়া এলাকায় কয়েকজন তরুণ একটি মাছের বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করেন। সেখানে অ্যালকোহল ও বিভিন্ন মাদকদ্রব্য মিশিয়ে একটি পানীয় তৈরি করে কয়েকজন তা সেবন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পার্টি শেষে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেলে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পরিবারের সদস্যরা প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। সাকিবকে রাত পৌনে ১০টার দিকে জেলা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, বিষাক্ত ও ভেজাল মদপানের উপসর্গ নিয়ে কয়েকজন হাসপাতালে এসেছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের চিকিৎসা চলছে এবং গুরুতর অবস্থায় থাকা রোগীদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
সুধারাম মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমান জানান, একাধিক মাদকদ্রব্য মিশিয়ে তৈরি পানীয় সেবনের কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ সাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।