ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং সার্বিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

গত ১৮ অক্টোবর জারি করা এক নির্দেশনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্দেশনায় বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ, অফিসকক্ষ, বারান্দা, ছাদ, শৌচাগার এবং আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের পর নির্দেশনা

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মিরপুর বাংলা কলেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিবেশ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম

নির্দেশনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলার পাশাপাশি মশার বংশবিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ ছাড়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা, সার্বিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যাদের কাছে পাঠানো হয়েছে নির্দেশনা

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক মো. নাজমুল হক স্বাক্ষরিত নির্দেশনাটি অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক, সরকারি ও বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জমে থাকা পানি ও মশার প্রজননস্থল দূর করে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো।