বাংলাদেশের মতো এই রাষ্ট্রেরও আজ সবচেয়ে বেশি দরকার এমন একটি ভরসার হাত যে হাত শোকের সময়ে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াবে, বলবে, ‘আপনারা একা নন, আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি।’ চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় গোলা বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন দুই সেনাসদস্য। দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁদের এই আত্মত্যাগে স্বজনদের ঘরে নেমে এসেছে গভীর শোক। এই কঠিন সময়ে শহীদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি, জানান গভীর সমবেদনা। একই সঙ্গে তাঁদের হাতে তুলে দেন আর্থিক সহায়তার চেক। তবে এই সাক্ষাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল শুধু একবারের সহায়তা নয়, ভবিষ্যতেও এই পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের সেনাসদস্যরা প্রাণ দিয়েছেন। তাঁরা দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন। তাঁদের এই আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, এই শোকের সময়ে সরকার তাঁদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। সরকার ও সেনাবাহিনী সব সময় তাঁদের পরিবারের পাশে থাকবে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারের দেখভালের দায়িত্বও সরকার পালন করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একজন সেনাসদস্য যখন দেশের দায়িত্ব পালন করেন, তখন তাঁর দায়িত্বটা শুধু তাঁর নিজের থাকে না তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবার, বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী কিংবা সন্তানদের স্বপ্নও।

আর সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যখন কেউ আর ফিরে আসেন না, তখন তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানো শুধু আর্থিক সহায়তার বিষয় নয় এটি তাঁদের এই বার্তা দেওয়ার বিষয় যে, দেশের জন্য যিনি জীবন দিয়েছেন, তাঁর পরিবারকে দেশ ভুলে যায়নি। কারণ একজন সেনাসদস্যের আত্মত্যাগ শেষ হয়ে যায় তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে নয়। তাঁর পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্বও তখন থেকেই শুরু হয়। শহীদ দুই সেনাসদস্যের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা, আর তাঁদের পরিবারের জন্য এই ভরসার হাত হয়তো শোকের কষ্ট দূর করতে পারবে না, কিন্তু অন্তত এই অনুভূতিটুকু দিতে পারে, তাঁরা এই কঠিন সময়ে একা নন।