দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ও ঝুঁকি মোকাবিলার লক্ষ্যে প্রথম দফায় টিকার সুরক্ষার বাইরে থেকে যাওয়া প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকাদানের আওতায় আনতে বিশেষ কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে সরকার। ঘোষিত এই টিকাদান ক্যাম্পেইন আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত কড়াইল বস্তির টিএনটি খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
ক্যাম্পেইনের প্রেক্ষাপট ও বাদ পড়া শিশুর পরিসংখ্যান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত বিশেষ এমআর টিকাদান কর্মসূচির প্রথম ধাপে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে গত ২৮ জুনের জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে একই বয়সী প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ শিশু অংশ নিলে দেখা যায় যে প্রায় ৪৩ লাখ শিশু এমআর টিকার বাইরে থেকে গেছে। মূলত সুরক্ষা বঞ্চিত এই বিপুলসংখ্যক শিশুকে চূড়ান্তভাবে টিকার আওতাভুক্ত করতেই দ্বিতীয় দফার এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিগত বছরগুলোর খেসারত ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন খেদ প্রকাশ করে বলেন, "২০২০ সালের পর থেকে নিয়ম অনুযায়ী চার বছর পরপর নিয়মিত যে এমআর টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল, তা পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর ফলে দেশের বিপুলসংখ্যক শিশু প্রয়োজনীয় টিকার আইনি ও স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়।"
তিনি আরও যোগ করেন, "ভাগ্যক্রমে কিংবা দুর্ভাগ্যবশত, আমরা প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করার পর সেই চার বছরের অবহেলার খেসারত এসে পড়েছে আমাদের ওপর। আমাদের পুরো জাতিকে, আমাদের মায়েদের অনেক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে এবং বহু মায়ের কোল খালি হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে সত্যিই গভীরভাবে ব্যথিত।"
চিকিৎসকদের অবদান ও নিউমোনিয়া জটিলতা বিভিন্ন সংকটকালীন সময়ে দেশের চিকিৎসকদের অবদানের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, দেশের চিকিৎসকেরা যেকোনো জাতীয় সংকট ও জরুরি পরিস্থিতিতে সততা ও নিষ্ঠার সাথে সেবা দিয়েছেন। করোনাকালের দৃষ্টান্ত টেনে তিনি বলেন, উন্নত ও প্রতিবেশী নানা দেশের তুলনায় আমাদের দেশে চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে মৃত্যুহার কম ছিল এবং চিকিৎসায় শতাধিক চিকিৎসক জীবনের আত্মত্যাগ করেছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও সতর্ক করে জানান, পুষ্টিহীনতায় ভুগতে থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে হামের সংক্রমণ হলে পরবর্তীতে নিউমোনিয়ার মারাত্মক জটিলতা তৈরি হয়, যা তাদের মৃত্যুঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়।
সম্মিলিত সামাজিক সচেতনতার আহ্বান যেকোনো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে সরদার সাখাওয়াত হোসেন গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে ইতিবাচক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হামসহ যেকোনো মহামারি ও রোগের বিরুদ্ধে জয়ী হতে হলে সমাজের প্রতিটি স্তরকে একসাথে মিলে কাজ করতে হবে।