কক্সবাজারের সীমান্তঘেঁষা উপজেলা টেকনাফে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে একটি বাড়িতে বন্দি করে রাখা ১৭ জন পুরুষকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (এসআরবি-১৫)।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে অভিযানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আ. ম. ফারুক। এর আগে শুক্রবার রাতে টেকনাফ উপজেলার দক্ষিণ লম্বরী এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের বিবরণ ও পাচারকারীদের পালানো এসআরবি-১৫-এর সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প) সূত্র জানায়, গোপন তথ্য ও প্রযুক্তির সুনির্দিষ্ট সহায়তায় ব্যাটালিয়ন জানতে পারে যে একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র বিদেশ পাচারের উদ্দেশ্যে দক্ষিণ লম্বরী এলাকার মো. ইব্রাহীমের বসতবাড়িতে বেশ কিছু মানুষকে জড়ো করে রেখেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখানে দ্রুত অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারী চক্রের সদস্যরা কৌশলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে উক্ত বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বন্দি অবস্থায় ১৭ জন পুরুষকে উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগীর জবানবন্দি উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মোহাম্মদ করিম নামে একজন ভুক্তভোগী জানান, পাঁচ দিন আগে তিনি কাজের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সাইফুল নামে এক দালালের নিকট যান। চুক্তি অনুযায়ী সেদিনই তাঁদের নৌপথে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা থাকলেও বাস্তবে তাঁদের কয়েক দফা হাতবদল করে দক্ষিণ লম্বরীর ওই বাড়িতে আটকে রাখা হয়।
করিম বলেন, "আমরা স্বইচ্ছায় কাজের খোঁজে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে টেকনাফে সাইফুলের কাছে এসেছিলাম। কিন্তু পরে আমাদের বন্দী করে রাখা হয়। কোনো উপায় না পেয়ে আমি একপর্যায়ে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সমর্থ হই।"
উদ্ধারকৃতদের পরিচয় ও জেলাভিত্তিক তালিকা এসআরবি-১৫ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।
-
বান্দরবান জেলা (লামা উপজেলা): মো. জাফর আলম, মো. নুরুল হুদা, মো. শাহিন শাহরিয়ার হৃদয়, মো. বেলাল, মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. সাফায়েত হোসেন।
-
কক্সবাজার জেলা (চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, কক্সবাজার সদর ও টেকনাফ এলাকা): মো. মামুনুর রশিদ, মো. তাফসির, মো. আশরাফ হোসেন, মো. বাবুল, মো. আনসার উদ্দিন, মো. নুরুল আফসার, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. জোবায়ের ও মো. নুর মোস্তফা।
আইনি ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা নজরদারি ঘটনার বিষয়ে এসআরবি-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক জানান, অর্থনৈতিক লাভের উদ্দেশ্যে একটি অপরাধী চক্র পাচারের জন্য তাঁদের ঐ বাড়িতে জড়ো করেছিল। তাঁদের সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের চূড়ান্ত পরিকল্পনা ছিল। এই চক্রের জড়িত পলাতক ও অজ্ঞাতনামা পাচারকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, এসআরবি টিম উদ্ধার হওয়া ১৭ জনকে থানায় হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।