রাজপথে রাজনৈতিক শক্তিমত্তা ও প্রতিপক্ষের সমালোচনা প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, “আমরা যদি মনে করি ২০৩১ সাল পর্যন্ত, অর্থাৎ আগামী নির্বাচন পর্যন্ত এই রাজপথ বিএনপি এককভাবে দখল করে রাখবে—তবে আমরা তা-ই রাখতে পারব। সেই সাংগঠনিক ও জনসম্পৃক্ত ক্ষমতা বিএনপির আছে।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতাদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, “বিএনপিকে খামোখা হুমকি দেবেন না। বিএনপি কাউকেই পরোয়া করে না। আজকে আপনারা যেসব আচরণ করছেন, তাতে প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকেই বাংলাদেশে নতুন করে আমন্ত্রণ জানানোর সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছেন।”
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সাম্প্রতিক বন্যায় চরম ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে চেক বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এনসিপি নেতাদের শিষ্টাচার ও মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “আপনাদের (এনসিপি) প্রতি দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় আশা-আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। সাধারণ মানুষ ভেবেছিল এই নতুন তরুণ নেতৃত্ব দেশে একটি ভালো ও ইতিবাচক ধারা সৃষ্টি করবে; আর এ জন্যই আপনাদের দু-এক জায়গা থেকে নির্বাচিতও করেছে। কিন্তু বর্তমানে আপনারা যে ভাষায় কথা বলছেন, তা কোনো সুস্থ রাজনৈতিক ভাষা হতে পারে না।”
দলটির নেতাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “রংপুর-বগুড়ার লংমার্চ কিংবা ঢাকা-চট্টগ্রামের লংমার্চের মতো কর্মসূচিতে বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি এবং ওই যে আরেকটা কী পাটওয়ারী (নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী)—এরা যে ভাষায় কথা বলেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশেষ করে আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতা তারেক রহমানের মতো জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিত্বের ব্যাপারে ওই বয়সের বাচ্চাদের মুখ দিয়ে যখন এমন চরম শিষ্টাচারবহির্ভূত কথাবার্তা বের হয়, তখন বিএনপির যেসব নেতাকর্মীর শরীরে এক ফোঁটা রক্তও অবশিষ্ট আছে, তাদের পক্ষে এসব বেপরোয়া মন্তব্য সহ্য করার কথা নয়।”
ধৈর্য ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা বিএনপির দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমাদের দলীয়ভাবে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরতে বলা হয়েছে বলেই আমরা এখনও সম্পূর্ণ শান্ত ও ধৈর্য ধরে আছি। তবে আমরা যদি কঠোর সিদ্ধান্ত নিই এবং মনে করি আগামী ২০৩১ সাল পর্যন্ত এই রাজপথ সম্পূর্ণ বিএনপি দখল করে রাখবে—তবে আমরা সত্যিই তাই করতে পারি। সেই ক্ষমতা আমাদের শতভাগ রয়েছে। তাই আবারও বলছি, বিএনপিকে কোনো ফাঁকা হুমকি দেবেন না; বিএনপি কারও হুমকিতে পরোয়া করে না। আপনাদের এমন অবিবেচকের মতো ভাষা ও অবস্থান আদতে অবিন্যস্তভাবে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শক্তিকেই পুনরায় রাজনৈতিক ময়দানে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।”