কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের কর্মকাণ্ডে প্রায় ৩৪০ কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতি শনাক্ত হয়েছে। সংস্থাটির ৪০ বছরের ইতিহাসে এটিই আর্থিক অনিয়মের সর্বোচ্চ পরিমাণ বলে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

কৃষি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের হিসাব-সম্পর্কিত ১৬ সদস্যের কমপ্লায়েন্স অডিট ইন্সপেকশন টিম সম্প্রতি ৬৭২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করেছে। বিএমডিএর প্রধান কার্যালয়, আটটি প্রকল্প, ১১টি আঞ্চলিক কার্যালয় ও ২০টি ব্যয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে শতাধিক অনিয়ম শনাক্ত করা হয়। এসব অনিয়মের আর্থিক মূল্য ৩৩৯ কোটি ৯৭ লাখ ৫৭ হাজার ৫৩২ টাকা।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী তহবিলের ৫০ শতাংশ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিএমডিএ ৪০টি ব্যাংকে ২৭২টি এফডিআরে ৪০৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা জমা রাখে। এর মধ্যে ২২টি বেসরকারি ব্যাংকে রাখা হয় ২৯৮ কোটি ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা। ঝুঁকিপূর্ণ আটটি ব্যাংকে সীমার অতিরিক্ত ৮৫ কোটি ৮০ লাখ ৫৬ হাজার ৩৬৭ টাকা রাখার অভিযোগও রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন পূর্তকাজ ও পণ্য কেনাকাটায় ১০৯ কোটি ৭৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৬৭ টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। এর মধ্যে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই বিপুল অর্থ ব্যয় এবং ক্ষমতার বাইরে গিয়ে বিল পরিশোধের অভিযোগ রয়েছে।

নাটোরে প্রয়োজন ছাড়াই ১ কোটি ৯ লাখ টাকার স্বল্প উত্তোলক পাম্প কেনার পর দুই বছর ধরে সেগুলো গুদামে পড়ে থাকার তথ্যও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এছাড়া বাঁধ নির্মাণকাজে সরবরাহ করা ব্লকের চেয়ে বেশি পরিমাণের বিল পরিশোধ করে ২২ লাখ ৩৯ হাজার ১৭৭ টাকা অতিরিক্ত দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

একই প্রকল্পের সেচনালা নির্মাণের ৬৬টি প্যাকেজকে ৬৬০টি ছোট প্যাকেজে ভাগ করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ইউপিভিসি পাইপ সরবরাহে ৫৪ কোটি ৯২ লাখ টাকার বেশি বিল পরিশোধের ক্ষেত্রেও ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করেছে নিরীক্ষা দল।

এ ছাড়া অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শক নিয়োগ, প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও ৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত না দেওয়া, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল তুলে নেওয়া, সোলার প্যানেল জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত না করায় ২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ক্ষতি এবং কাজ না করেই ঠিকাদারকে বিল দেওয়ার মতো নানা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও ৭৯টি অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ১২০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, অনেক আপত্তির জবাব ও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। যেসব বিষয় আর্থিক অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলো নিষ্পত্তিতে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। কিছু ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিক কারণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।