একসময় বৈশ্বিক স্পোর্টসওয়্যার বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল নাইকির। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজস্ব কমা, গ্রাহক হারানো এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে বাজার হারানোর কারণে কঠিন সময় পার করছে মার্কিন এই ক্রীড়া ব্র্যান্ড।

শেয়ারবাজারে মূল্য কমে যাওয়ার পর সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর সূচক এসঅ্যান্ডপি ১০০ থেকেও বাদ পড়েছে নাইকি। প্রতিষ্ঠানটিকে ঘুরে দাঁড় করাতে দুই বছর আগে অবসর ভেঙে সিইও হিসেবে ফিরে আসা এলিয়ট হিল নতুন কৌশল গ্রহণ করলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবর্তনের গতি বেশ ধীর।

নাইকির সংকট আরও স্পষ্ট হয়েছে শীর্ষ ফুটবল তারকাদের হারানোর ঘটনায়। দীর্ঘ ২০ বছরের সম্পর্কের ইতি টেনে কিলিয়ান এমবাপ্পে সুইজারল্যান্ডের উদীয়মান ব্র্যান্ড ‘অন’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এর আগে তরুণ স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামালও নাইকি ছেড়ে অ্যাডিডাসে যোগ দেন। বড় তারকাদের এই প্রস্থান ব্র্যান্ডটির ভাবমূর্তিতে চাপ তৈরি করেছে।

সর্বশেষ প্রান্তিকে নাইকির রাজস্ব দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার, যা বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে কম। চীনের বাজারে রাজস্ব কমেছে ২৬ শতাংশ। পাশাপাশি জর্ডান ব্র্যান্ডের অতিরিক্ত পণ্য সরবরাহের কারণে বিক্রি কমায় উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

নতুন অর্থবছরে আয় আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ২০৩১ সালের মধ্যে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে নাইকি। এ ঘোষণার পর নিউইয়র্কের শেয়ারবাজারে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ৮ শতাংশের বেশি কমে যায়।

স্পোর্টস রিটেইল খাতের বিশ্লেষক ম্যাট পাওয়েল নাইকির সংকটের পেছনে কয়েকটি কৌশলগত সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন। তার মতে, সীমিত সংস্করণের জুতার সরবরাহ বাড়ানোয় এসব পণ্যের বিশেষত্ব কমেছে। সাবেক সিইও জন ডোনাহোর সময়ে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক কমিয়ে নিজস্ব অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। মহামারির সময় এ কৌশল কিছুটা সফল হলেও পরে এর কার্যকারিতা কমে যায়।

এ ছাড়া পণ্য উদ্ভাবনের পরিবর্তে ডিজিটাল কার্যক্রমে বেশি ব্যয় করায় নতুন পণ্য তৈরির ক্ষেত্রে নাইকি প্রতিযোগীদের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা।

নতুন প্রজন্মের কাছে ব্র্যান্ডের আবেদন বাড়াতে ঐতিহাসিক ‘জাস্ট ডু ইট’ স্লোগানের পাশাপাশি ‘হোয়াই ডু ইট?’ নামে নতুন প্রচারণা শুরু করেছে নাইকি। ম্যাট পাওয়েলের ধারণা, এসব উদ্যোগের প্রভাব আগামী বছর থেকে দেখা যেতে পারে। তবে নাইকি ঘুরে দাঁড়ালেও আগের মতো একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।