ফ্রান্সের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনায় বাংলাদেশে ফরাসি বিনিয়োগ বাড়ানো, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতা জোরদার, নতুন প্রকল্পে সহায়তা এবং দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয় গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি ফ্রান্সের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকে বাংলাদেশ সরকারের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও নগর ব্যবস্থাপনায় ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের উন্নয়ন অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নেওয়া সম্ভব।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বর্তমানে ফ্রান্সের উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা এজেন্স ফ্রঁসেজ দ্য ডেভেলপমঁ (এএফডি)-এর চারটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। প্রকল্পগুলো হলো সায়েদাবাদ পানি পরিশোধন প্ল্যান্টের তৃতীয় পর্যায়, ঢাকা এনভায়রনমেন্টালি সাস্টেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন স্যানিটেশন প্রকল্প ফর নর্থ কাট্টলী ক্যাচমেন্ট এবং ইমপ্রুভিং আরবান গভর্নেন্স অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রকল্প।
এসব প্রকল্পে সহায়তা হিসেবে ফ্রান্স প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা অর্থায়ন করছে। পাশাপাশি ফরাসি সহযোগিতায় দেশের সাতটি শহরে পানি সরবরাহ, অন্তর্ভুক্তিমূলক স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি উন্নয়নে নতুন একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।