ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পানি খাওয়ানোর অজুহাতে ফাঁকা ঘরে ডেকে নিয়ে মাহিদা (৭) নামের ৭ বছর বয়সী শিশু ভাতিজিকে নির্যাতনের পর হত্যার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে আপন চাচার বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার তালশহর ইউনিয়নের আন্দিদিল গ্রামে এই নৃসংশ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর পরই স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত চাচা জাহিদুলকে (১৭) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।

ঘটনার বিবরণ ও পরিবারের অভিযোগ নিহত শিশু মাহিদা ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী মোজাম্মেল মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় একটি কওমি মাদরাসার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর জাহিদুল তার ভাতিজি মাহিদাকে পানি খাওয়ানোর কথা বলে পাশের একটি ফাঁকা বসতঘরে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। একপর্যায়ে শিশুটিকে হত্যা করে অভিযুক্ত জাহিদুল সেখান থেকে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে।

এদিকে জুমার নামাজের পর মেয়েকে দেখতে না পেয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন মাহিদার মা মনিরা বেগম। একপর্যায়ে সন্দেহ হলে তিনি জাহিদুলের ওই ঘরে গিয়ে মাহিদাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তাঁর চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসক ও পুলিশের বক্তব্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। শিশুটির শরীরের একাধিক স্থানে দৃশ্যমান আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্ন হলে মৃত্যুর সঠিক ও সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।"

এ বিষয়ে সরাইল-আশুগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, "শিশুটিকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত জাহিদুলকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাহিদুল শিশুটিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এই বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে বিস্তারিত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"