দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল উৎসব হিসেবে পরিচিত ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ’-এর ভেন্যু যেখানেই হোক না কেন, সাধারণত টুর্নামেন্টজুড়ে এক উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। তবে এবারের আসরে সেই চিরচেনা উন্মাদনা অনুপস্থিত। উল্টো সর্বত্রই যেন সমন্বয়হীনতা ও অব্যবস্থাপনার চিত্র। বাফুফে ও সাফের মধ্যকার ইঁদুর-দৌড় খেলা এই টুর্নামেন্টকে এক গোলকধাঁধায় পরিণত করেছে।
নানা বিতর্ক ও সমালোচনার মধ্যেই আজ অনেকটা নীরবেই ঢাকায় পর্দা উঠছে ১৫তম সাফ আসরের। টুর্নামেন্টের আগের দিনও সেভাবে চোখে পড়েনি কোনো ব্যানার বা ফেস্টুন। এমনকি এবার হচ্ছে না ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানও। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান জমকালো করার পরিকল্পনা রয়েছে। যেখানে সংগীত পরিবেশনার পাশাপাশি আতশবাজি, বিশেষ আলোকসজ্জা এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পরিচিতি পর্বসহ নানা আয়োজন থাকতে পারে।
এবারের টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে। সাফে হামজা-জামালদের খেলা দেখতে সাধারণ গ্যালারির টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা। এছাড়া ক্লাব হাউজ, ভিআইপি ও রেড বক্সের টিকিটের দাম আরও কয়েকগুণ বেশি। সাধারণ গ্যালারির টিকিটের এই চড়া দামে সাবেক ফুটবলার থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শকদের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে উদ্বোধনী ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের লড়াই দিয়ে আসর শুরু হবে। একই দিনে ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে নিজেদের মিশন শুরু করবে স্বাগতিক বাংলাদেশও। দীর্ঘ ২৩ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো আঞ্চলিক শিরোপা ঘরে তোলার লক্ষ্য নিয়ে শুভ সূচনা করতে চায় তারা। ম্যাচটি রাত ৮টায় শুরু হবে এবং বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল টি-স্পোর্টস এটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।
দীর্ঘ আট বছর পর বাংলাদেশে ফিরেছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের এই মর্যাদাপূর্ণ আসর। ২০০৩ সালে সর্বশেষ শিরোপা জেতা বাংলাদেশ এবার ট্রফি পুনরুদ্ধারে মুখিয়ে আছে। তবে কোচ থমাস ডুলির শিষ্যদের শুরুতেই বেশ কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে। ২০০৫ সালে রানার্সআপ হওয়ার পর বাংলাদেশ আর অতীতের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। ঘরের মাঠে দর্শকদের সামনে খেলাটা বড় প্রেরণা হলেও, বাড়তি প্রত্যাশার চাপ সামলানোও দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
শিরোপার ব্যাপারে আশাবাদী কোচ থমাস ডুলি। তার মতে, বাংলাদেশকে আর আন্ডারডগ বা দুর্বল দল হিসেবে বিবেচনা করার কোনো সুযোগ নেই। অধিনায়ক তপু বর্মণও কোচের উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে একমত পোষণ করে জানান, ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার সুবর্ণ সুযোগটি শতভাগ কাজে লাগাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ দলের ফুটবলাররা।
তবে উদ্বোধনী ম্যাচে দলের তারকা মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। ক্লাব ব্যস্ততার কারণে তার খেলা হচ্ছে না। হামজার অনুপস্থিতি অন্যদের ওপর, বিশেষ করে মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে। ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই তাদের নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে।
সাফের আগে বাংলাদেশের আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো সীমিত প্রস্তুতি। স্বল্প সময়ের অনুশীলন ক্যাম্পের কারণে পূর্ণাঙ্গ কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারেনি দল। ফলে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে খেলোয়াড়দের মধ্যকার পারস্পরিক বোঝাপড়া ও একাদশের কার্যকারিতা যাচাইয়ের সুযোগ কিছুটা কম পেয়েছেন কোচিং স্টাফরা।
অন্যদিকে, বাংলাদেশকে আটকে রেখে ইতিবাচক ফল নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে চায় ভুটান দল। দলটির প্রধান কোচ গ্যারি ফিলিপস ও অধিনায়ক চেনচো গিয়েলতশেন নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। তবে ঘরোয়া লিগের ব্যস্ত সূচির কারণে নির্ধারিত সময়ের আগে খেলোয়াড়দের একসঙ্গে করতে না পারায় তাদের প্রস্তুতিও কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।
এবারের আসরে গ্রুপ ‘এ’-তে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান লড়বে গ্রুপ ‘বি’-তে। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল জায়গা করে নেবে সেমিফাইনালে। আগামী ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে শেষ চারের ম্যাচ দুটি এবং ১৭ নভেম্বর পর্দা নামবে ফাইনাল খেলার মধ্য দিয়ে।
সেমিফাইনালে নিজেদের টিকিট নিশ্চিত করতে গ্রুপ পর্বে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে প্রতিটি দল। তাই স্বাগতিক বাংলাদেশের জন্য জয় দিয়ে আসর শুরু করা অত্যন্ত জরুরি