গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পুরোনো চুক্তি শুধু নবায়ন না করে নতুন চুক্তি করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে তিস্তাসহ অভিন্ন সব নদীর পানিবণ্টন ও ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সমান অংশীদারত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর পলাশী চত্বরে আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভের পাদদেশে শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। তাই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে ভাবতে হবে। তাঁর মতে, শুধু নবায়ন নয়, বাংলাদেশের স্বার্থ ও ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করে নতুন চুক্তি করা প্রয়োজন। নদীর পানিবণ্টনের পাশাপাশি যৌথ নদী ব্যবস্থাপনাতেও বাংলাদেশের সমান অংশগ্রহণ থাকতে হবে।

পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতে নতুন চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ রাখার দাবি জানান এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, শুষ্ক মৌসুমে নদীর ন্যূনতম প্রবাহ ও নাব্যতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পানি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো কারণে পানির ঘাটতি দেখা দিলে তার প্রভাব দুই দেশকেই সমভাবে বহন করতে হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারত যদি প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তাহলে গঙ্গার পাশাপাশি তিস্তাসহ অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনেও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক শত্রুতাপূর্ণ হোক, তা তাঁরা চান না। তবে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ ও সমতার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে থাকা অভিন্ন নদীগুলোর পানিতে আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা রয়েছে। কিন্তু গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ সেই অধিকার যথাযথভাবে পায়নি। ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে ভারত গঙ্গার পানি নিয়ন্ত্রণ করায় বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও সংসদীয় আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, গঙ্গা চুক্তিসহ দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত। জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এসব চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু বিদেশ সফর ও বৈঠক করলেই হবে না; আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ কী অর্জন করেছে, সেটিও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। বিশেষ করে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির ক্ষেত্রে সরকার বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা নিশ্চিত করতে পারে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।

আবরার ফাহাদের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ এবং ভারতের সঙ্গে অসম সম্পর্কের বিরোধিতা ছিল তাঁর লেখালেখির অন্যতম বিষয়। তাই তাঁর হত্যাকাণ্ডকে শুধু একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখলে চলবে না; এর সঙ্গে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নও জড়িত।

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় দেওয়া মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবিও জানান তিনি। এ সময় তিনি বলেন, মামলায় যেসব আসামির মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, সেই রায় অবিলম্বে কার্যকর দেখতে চান তাঁরা।

স্মরণসভায় আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকতউল্লাহ, কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, মানবাধিকারকর্মী আদিলুর রহমান খানসহ এনসিপির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদ।