মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হারের ক্ষত নিয়েই সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে নেমেছিল বাংলাদেশ। এবার দলে ছিল সাত প্রবাসী ফুটবলার - নতুন সংযোজন আর অভিজ্ঞতার মিশেলে জয়ের আশাই ছিল লাল-সবুজদের চোখে। শুরুটাও মন্দ হয়নি, বরং প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময়ই প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে প্রেসিং ফুটবলে নিজেদের উপস্থিতির জানান দেয় বাংলাদেশ।
তবে ভালো শুরুর সেই গল্পটা ৩৫ মিনিটেই বদলে যায়। সিঙ্গাপুরের এক ক্রস থেকে উড়ে আসা বলে দুর্দান্ত হেড করেন স্টুয়ার্ট - আর তাতেই কেঁপে ওঠে বাংলাদেশের জাল। একাধিকবার দারুণ সেভ করে দলকে আগলে রাখা গোলরক্ষক শ্রাবণও এবার ঠেকাতে পারেননি নিখুঁত সেই হেড। মুহূর্তেই বাংলাদেশের সব পরিশ্রম মিশে যায় এক গোলের হতাশায়।
এক গোলে পিছিয়ে বিরতিতে যাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ানোর তাগিদ আরও বাড়ে। দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক পরিবর্তন এনে আক্রমণে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন কোচ। ফাহমিদুল, সোহেল ও স্বাধীনরা মাঠে নামার পর বাংলাদেশের আক্রমণেও দেখা যায় নতুন প্রাণ। কিন্তু আক্রমণের সেই ঝলক শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা এনে দিতে পারেনি।
এর মধ্যেই সমতা ফেরানোর সবচেয়ে বড় সুযোগগুলোর একটি আসে শমিত শোমের মাথা থেকে। দুর্দান্ত হেডে গোলের আশা দেখালেও শেষ পর্যন্ত বলটি চলে যায় পোস্ট ঘেঁষে বাইরে। এরপর রাকিবের হেডও যেন গোলের দরজায় কড়া নাড়ে, কিন্তু সিঙ্গাপুরের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল চলে যায় বাইরে। সুযোগ এসেছে, চেষ্টা হয়েছে - শুধু শেষ হাসিটাই হাসতে পারেনি বাংলাদেশ।
শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইন বদলায়নি। ১-০ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় হামজা, জায়ানদের। আসিয়ান কাপে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হার বাংলাদেশের, আর দুই ম্যাচ শেষে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে লাল-সবুজরা। সাত প্রবাসীকে নিয়ে নতুন স্বপ্নের শুরু হলেও, আপাতত সেই স্বপ্নের আকাশে জমেছে হতাশার মেঘ। স্বপ্ন ছিল জয়ের, কিন্তু দুই ম্যাচ শেষে সঙ্গী শুধু হতাশা - মাঠ থেকে তাই নীরব মুখেই ফিরতে হলো হামজা-জায়ানদের।