জিনেদিন জিদানের কোচিং অধ্যায়ের প্রথম ম্যাচেই তুরস্কের বিরুদ্ধে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ফ্রান্স। তবে জয়সূচক গোল করার পরও সেই জয়ের আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করতে পারলেন না ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। হাঁটুর মারাত্মক চোটের শঙ্কা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ডকে। চোটের যা অবস্থা, তাতে নেশনস লিগের বাকি অংশে ফ্রান্স অধিনায়ককে আর নাও পাওয়া যেতে পারে।

তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের ৬৭ মিনিটে মাইকেল ওলিসের চমৎকার পাস থেকে ফরাসিদের জয়সূচক গোলটি উপহার দেন এমবাপ্পে। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল তাঁর ৬৭তম গোল।

উদযাপনের মুহূর্তেই ইনজুরি গোলের পর উদযাপনের সময় থেকেই মাঠে খোঁড়াতে দেখা যায় এমবাপ্পেকে। তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে চিকিৎসা দেওয়া হলেও হাঁটুতে তীব্র ব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তি না কমায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে মাঠ থেকে তুলে নিতে বাধ্য হন কোচ।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এমবাপ্পের এই চোট নিয়ে গভীর শঙ্কার কথা জানান ফ্রান্সের নতুন কোচ জিনেদিন জিদান। তিনি বলেন, পরিস্থিতি খুব একটা সুবিধাজনক মনে হচ্ছে না। এমবাপ্পের হাঁটু বেশ ফুলে গেছে। ফলে তাঁকে নিয়ে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি নিতে রাজি নয় দল। প্রয়োজনে চিকিৎসার জন্য তাঁকে ক্লাবে ফেরত পাঠানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন জিদান।

জিদানের ফরাসি ডাগআউটে নতুন সূচনা খেলোয়াড় হিসেবে ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতিময় ইতিহাসের পর এবার জাতীয় দলের ডাগআউটে কোচ হিসেবে দাঁড়িয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন জিদান। ফরাসি জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার আগে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দুটি পৃথক মেয়াদে (২০১৬-২০১৮ এবং ২০১৯-২০২১) সফল কোচিং করিয়েছেন ৫৪ বছর বয়সী এই ফুটবল কিংবদন্তি। মাদ্রিদের ক্লাবটিকে তিনি তিনটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ও দুটি লা লিগা শিরোপা এনে দিয়েছিলেন।

অভিষেক ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে দল জয় পেলেও অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের হাঁটুর চোট এখন জিদানের সামনে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চোটের সার্বিক মূল্যায়ন শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না জানানো হলেও, ফরাসি ডাগআউট যে তাদের প্রধান তারকাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না—তা কোচের বক্তব্যে অত্যন্ত স্পষ্ট।