জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ সম্পন্ন করার পরপরই নির্ধারিত সফর সংক্ষিপ্ত করে নিজ দেশ ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
সাধারণ পরিষদে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার পরপরই তিনি লাতিন আমেরিকার তিন দেশ—প্যাঁরাগুয়ে, পানামা ও বলিভিয়ার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। এ সময় তিনি ‘আইজ্যাক অ্যাকর্ডস’-এর মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ওই তিন দেশের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।
তবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, মূলত চরম নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগের কারণেই নেতানিয়াহু তাঁর পূর্বনির্ধারিত নিউ ইয়র্ক সফর সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন।
নেতানিয়াহুর এই সফরকে কেন্দ্র করে নিউ ইয়র্ক সিটির রাজনীতিতেও তুমুল আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। শহরের মেয়র পদপ্রার্থী জোহরান মামদানি পূর্বেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, নিউ ইয়র্কে এলে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করবেন।
পরবর্তী সময়ে মঙ্গলবার সিএনএন (CNN)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মামদানি অবশ্য স্পষ্ট করে পুনরায় উল্লেখ করেন যে, আইনগতভাবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি গ্রেপ্তার করার কোনো সরাসরি এখতিয়ার বা প্রশাসনিক ক্ষমতা তাঁর হাতে নেই। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কর্তৃক নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কার্যকর বা সম্মান করা উচিত।
এদিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিউ ইয়র্ক সফর ও জাতিসংঘে উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে পুরো নিউ ইয়র্ক সিটিজুড়ে তীব্র গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করে নেতানিয়াহু বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অ্যাকশনে নামে পুলিশ। বিক্ষোভ চলাকালীন আইন লঙ্ঘন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করে নিউ ইয়র্ক পুলিশ।